সাবেক পররাষ্ট্র সচিব কূটনীতিক মোহাম্মদ মিজারুল কায়েস আর নেই।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিঃপ্রচার বিভাগের মহাপরিচালক লুৎফর রহমান বলেন, ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ার একটি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মিজারুল ব্রাজিলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছিলেন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে মাসখানেক ধরে ব্রাসিলিয়ার ওই হাসপাতালে আইসিইউতে ছিলেন তিনি।
কিশোরগঞ্জের সন্তান মিজারুল স্ত্রী নাইমা চৌধুরী ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।
মিজারুল কায়েসের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উল্লেখ, ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মিজারুল। এর আগে ২০১২ সালে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ও রক্তে ইনফেকশনের মতো প্রাণঘাতী সেপটেসেমিয়ায় আক্রান্ত হন।
সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ওইসময় সুস্থ হয়েছিলেন তিনি।
ব্রাজিলে যাওয়ার আগে মিজারুল বাংলাদেশের লন্ডন মিশনে হাই কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন।
মালদ্বীপ ও রাশিয়ায় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনের পর ২০০৯ সালের জুলাইয়ে পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্বে পালন করেন মিজারুল। তিন বছর পর তিনি হাই কমিশনারের দায়িত্ব নিয়ে লন্ডন যান। সেখানে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি ব্রাজিলে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্টে পড়াশোনা করা মিজারুল বিসিএসে ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ নানা পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউটেও তিনি শিক্ষকতা করেছেন।
শিল্পকলার একজন সমঝদার ব্যক্তি হিসেবেও খ্যাতি রয়েছে মিজারুলের, চিত্রকর্ম সংগ্রহে তার ছিল বিশেষ ঝোঁক। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও চিত্র প্রদর্শনীতে বিচারকের ভূমিকা পালন করেছিলেন এ কূটনীতিক। ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সদস্য ছিলেন তিনি।
২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্রসচিবের দায়িত্ব পালন করেন মিজারুল কায়েস। তিনি যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপের হাইকমিশনার ও রাশিয়াতে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়া মিজারুল কায়েস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মহাপরিচালক হিসেবে সার্ক, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, আনক্লস ও বহিঃপ্রচার অনুবিভাগের দায়িত্বও পালন করেন।