নৌবাহিনীতে দু'টি সাবমেরিন যোগ হওয়ায় আধুনিকতা ও উন্নয়নের পথে বাংলাদেশ আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল –এ মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ওপর আঘাত আসলে সমীচীন জবাব দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।
রোববার দুপুরে, চট্টগ্রামের নেভাল বার্থে আধুনিক দুই সাবমেরিন-ডুবো জাহাজ নবযাত্রা ও জয়যাত্রার কমিশনিং এর সময় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
চীনের ০৩৫ জি টাইপ দুটি ডিজেল ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিনের অর্ন্তভুক্তির মধ্য দিয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার চট্টগ্রামের নৌ ঘাঁটি ইশা খাঁয় "বানৌজা নবযাত্রা" ও বানৌজা "জয়যাত্রা" নামের সাবমেরিন দুটির কমিশনিং ফরমান হস্তান্তর করেন। সাবমেরিন দু'টির নামফলকও উন্মোচন করেন তিনি।
এরপর সংক্ষিপ্ত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক ও শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তুলতে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ ও বিদ্যমান জাহাজগুলোর অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়ানোর বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, সাবমেরিন পরিচালনা করে বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের তালিকায় যুক্ত হওয়ায় জাতি হিসেবে তা সম্মান ও মর্যাদার।
কেউ আক্রমণ করলে তার সমীচীন জবাব দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত –এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সাবমেরিন যুক্ত হওয়ায় জলসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়লো।
সেইসঙ্গে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ব্লকগুলোতে নিরাপত্তাসহ সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাবমেরিন দু'টি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
নৌবাহিনীর জন্য এক হাজার ৫৬৯ কোটি টাকায় দুটি সাবমেরিন কেনার জন্য চীনের সঙ্গে ২০১৪ সালে চুক্তি করে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর সাবমেরিন দুটি বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।
গত নভেম্বরে চীনের দালিয়ান প্রদেশের লিয়া ওনান শিপইয়ার্ডে বাংলাদেশের নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদের কাছে ০৩৫ জি সিরিজের সাবমেরিন (ডুবোজাহাজ) দুটি হস্তান্তর করেন চীনের পিপলস লিবারেশন নেভির রিয়ার অ্যাডমিরাল লিউ জি ঝু।
কনভেনশনাল দুটি ডিজেল ইলেকট্রিক ডুবোজাহাজের প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৭৬ মিটার ও প্রস্থ ৭ দশমিক ৬ মিটার। এগুলো টরপোডে ও মাইনে সুসজ্জিত। এগুলোর সামনের দিকে গতি ১২ নটিক্যাল মাইল এবং পেছনের দিকে গতি ১১ নটিক্যাল মাইল।