রাজধানীর মালিবাগ রেলগেইট এলাকায় নির্মাণাধীন মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের গার্ডার পড়ে রোববার মধ্যরাতে একজন মারা গেছেন। এতে আহত হয়েছেন দুই জন।
ঢাকা রেলওয়ে থানার এসআই মো. রাশেদ রানা বলেন, রাত সোয়া ২টার দিকে ক্রেন দিয়ে ফ্লাইওভারের গার্ডার তোলার সময় তার ছিঁড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে তিনজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, আনুমানিক ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তার নাম স্বপন। তিনি সম্ভবত পথচারী ছিলেন।
আহতদের মধ্যে একজন তমা কনস্ট্রাকশনসের প্রকৌশলী পলাশ, অন্যজনের নাম নুরুন্নবী।
এদিকে, মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে মগবাজার-মালিবাগ ফ্লাইওভার প্রকল্প। গত তিন বছরে ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ চলাকালে নিহতের সংখ্যা সাত জনে দাঁড়িয়েছে। আরও ভয়াবহ বিপদের আশঙ্কা করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে পদ্ধতিতে ফ্লাইওভার নির্মাণ হচ্ছে, তাতে দুর্ঘটনার আশংকা প্রতি মুহূর্তে। বার বার নকশা বদল হওয়া মগবাজার-মালিবাগ ফ্লাইওভার নির্মাণে নেই শ্রমিক কিংবা পথচারীর নিরাপত্তা।
ফলে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন তারা। তার ওপর ভাঙাচোরা রাস্তাঘাটের দুর্ভোগ তো রয়েছেই। সিটি করপোরেশন বলছে, উন্নয়ন কাজ চলার সময়ে জানমালের নিরাপত্তার পাশাপাশি রাস্তাঘাট ঠিক রাখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের।
রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ১১টি ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছে সরকার। নির্মাণাধীন রয়েছে আরো বেশ ক'টি। বিপুল ব্যয়ে এসব ফ্লাইওভার নির্মাণের একটাই উদ্দেশ্য-যানজট নিরসন করে নগরবাসীকে স্বস্তি দেয়া। কিন্তু ভুল নকশা ও প্রকল্পে সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতাসহ নানা কারনে ঝুঁকি ও বিড়ম্বনার কারণ হয়ে উঠেছে এ সব ফ্লাইওভার।
নির্মাণকাজ চলাকালে চট্টগ্রামের বদ্দারহাটে ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসে প্রাণ গেছে ১৩ জনের। আর মগবাজার-মালিবাগ ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে রোববার নিহত হল এক শ্রমিক। সব মিলিয়ে গত তিন বছরে এই ফ্লাইওভারে দুর্ঘটনায় শ্রমিক-পথচারীসহ এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে সাতজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্রুটিপূর্ণ নকশা এবং নির্মাণ কাজে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকার কারণেই ঘটছে এ সব দুর্ঘটনা।
এর আগে গত অক্টোবরে এই ফ্লাইওভারের রমনা থানার দিকের অংশে যাত্রীবাহি বাস নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ঘুরে যায়, সাতরাস্তার অংশে উল্টে যায় প্রিজন ভ্যান। ত্রুটিপূর্ন নকশার কারনেই এমন হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আর মগবাজার মালিবাগ অংশে ওপরে চলে নির্মান কাজ আর নিচে খানাখন্দে ভরা সড়কে জন চলাচল। দুদিক থেকেই ঝুঁকিপূর্ন। নাগরিক সেবার দায়িত্বে থাকা সিটি করপোরেশন বলছে, উন্নয়ন চলাকালীন সময়ে রাস্তাঘাট নিরাপত্তার দায়িত্ব ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের।
এদিকে, মগবাজার-মালিবাগ ফ্লাইওভার প্রসঙ্গে কথা বলতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তমা কস্ট্রাকশনের কোনও কর্মকর্তাকে খুঁজে পাওয়া যায়না। আর যাদের পাওয়া যায়, তাদেরও গণমাধ্যমে কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ভুল নকশার কারনে মগবাজার-মালিবাগ ফ্লাইওভার প্রকল্প শেষ করতে আরো ৬ মাস প্রয়োজন হচ্ছে।