বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বের বুকে দেশকে মর্যাদার আসনে আসীন করতে সক্ষম হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পরেও বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে হোঁচট খেতে হলেও আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দেশ গড়ায় কাজ করে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার বদলে দেশকে পেছনে নিয়ে গিয়েছিল। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। সেইসঙ্গে আর্থসামাজিক উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার।
সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বার বার বাঁধা এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতি অভিযোগ তুলেছিল বিশ্বব্যাংক, যা মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে।
এ সময় পদকপ্রাপ্তদের তাদের মেধা মনন দিয়ে প্রগতিশীল সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা।
এদিকে, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে গৌরবোজ্জল ভূমিকা, অসামান্য আত্মত্যাগ ও অসাধারণ অবদান রাখায় এবার দেশের বিভিন্ন পেশার ১৫ বিশিষ্টজনকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আর প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এই স্বীকৃতি পেয়েছে।
এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্ষেত্রে গ্রুপ ক্যাপ্টেন অবসরপ্রাপ্ত শামসুল আলম বীর উত্তম, আশরাফুল আলম, শহিদ মো. নজমুল হক, প্রয়াত সাবেক সমাজকল্যান মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী, শহিদ এন, এম নাজমুল আহসান ও শহিদ ফয়জুর রহমান আহমেদ।
চিকিৎসাবিদ্যায় ডা. এ.এইচ.এম তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী, সাহিত্যে রাবেয়া খাতুন এবং প্রয়াত গোলাম সামদানী কোরায়শী।
সংস্কৃতিতে প্রফেসর ড. এনামুল হক ও ওস্তাদ বজলুর রহমান বাদল। সমাজ সেবায় খলিল কাজী, গবেষনা প্রশিক্ষনে শামসুজ্জামান খান ও প্রয়াত অধ্যাপক ড. ললিত মোহন নাথ। জনপ্রশাসনে প্রফেসর মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।