র্যাবের গোয়েন্দা প্রধান লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদের মৃত্যু নিরাপত্তাগত কোনো ব্যর্থতা নয়— এটা দুর্ঘটনা বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
শুক্রবার বিকেলে উত্তরায় র্যাব সদর দপ্তরে সংস্থার গোয়েন্দা পরিচালক লে. কর্নেল আজাদের দ্বিতীয় জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সিলেটের আতিয়া মহলে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান বলেন, সিলেটে আতিয়া মহলের কাছে জঙ্গিদের রেখে যাওয়া বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নিরাপত্তার কোনো ব্যর্থতা ছিলো না। দুর্ঘটনাবশত এটি ঘটেছে। জঙ্গিরা আড়ালে আবডালে বোমা রেখে গিয়েছিল।
অচিরেই দেশের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করেন। এটি মোকাবেলায় সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী, পুলিশ, র্যা ব, সোয়াট যার প্রয়োজন হবে তাদেরই সহযোগিতা নেয়া হবে। অচিরেই সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের কন্ট্রোলে (নিয়ন্ত্রণে) নিয়ে আসবো বলে আশা করছি।
এ সময় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, কর্নেল আজাদকে হারিয়েছি তার ক্ষতি পূরণীয় নয়। এখন এক রকম যুদ্ধের মধ্যে রয়েছি— এ জঙ্গিদের দমন না করা পর্যন্ত থামবো না। সমূলে উৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।
আর পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক বলেন, মৌলভীবাজারের আস্তানায় থাকা জঙ্গিরাই সিলেটের আতিয়া মহলের বাইরের বিস্ফোরণগুলো ঘটায়। পরবর্তীতে তাদের সন্ধান পেয়েই সেখানে অভিযান শুরু করা হয়।
জঙ্গিবাদের পেছনে কারা মদদ দিচ্ছে এবং অর্থদাতাদেরও তদন্ত করে খুঁজে বের করা হবে বলেও জানান পুলিশ প্রধান।
গত শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট মহানগরের দক্ষিণ সুরমায় জঙ্গি আস্তানার পাশে বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ। ওই রাতেই হেলিকপ্টারে সিএমএইচে নিয়ে আসা হয় তাকে। পরদিন সন্ধ্যায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তবে গত বুধবার চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ঢাকায় এনে আবারও সিএমএইচ-এ রাখা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মারা যান তিনি।