দেশের শিল্প ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ও বিভীষিকার দিন ২৪ এপ্রিল আজ (সোমবার)। ৪ বছর আগে এ দিনেই সাভারে রানা প্লাজা ধসে মারা যান ৫টি গার্মেন্টসের হাজারেরও বেশি শ্রমিক।
শুধু নাম পরিচয়হীন হিসেবেই দাফন হয় দুই শতাধিক শ্রমিককে। আহত আরো হাজার শ্রমিকের অনেকেই পঙ্গু হয়েছেন চিরতরে। ভবনমালিক সোহেল রানা, প্রশাসন ও গার্মেন্ট-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দুর্নীতি-অনিয়মের বলি হয় বিশ্বময় সুনাম কুড়ানো রপ্তানিমুখী তৈরিপোশাক শিল্প।
তবে ৪ বছর পেরুলেও জড়িতদের বিচার ও শাস্তি, হতাহতদের ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান এবং সব কারখানার কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের জীবনমান নিশ্চিত করার সবকিছুই এখনো প্রক্রিয়াধীন। এসবের দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি শ্রমিক নেতাদের।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল। জীবিকার তাগিদেই সাভারের রানা প্লাজার পোশাক শ্রমিকেরা কাজে এসেছিলেন। কিন্তু হঠাৎই থমকে যায় হাজারো পরিশ্রমী হাত।
বিকট শব্দে ধসে পড়ে ধ্বসস্তুপে পরিণত হয়ে সেই বিভীষিকার ইতিহাসই তৈরি করলো সাভারের নয় তলা রানা প্লাজা। শ্রমিকের আর্ত চিৎকারে ভারী হয়ে উঠে চারপাশ. শোকবিহ্বল সারাদেশ। এ আর্তচিৎকার দেশের গন্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়লো গোটা বিশ্বে।
অথচ ভবনটিতে ফাটল দেখা দেয়ায় এই গার্মেন্টসগুলো চালু থাকারই কথা ছিল না। কিন্তু মুনাফার লোভে পরাজিত হয় মানবিকতা। ভবনমালিক ও গার্মেন্ট মালিক,শ্রমিকদের কাজে অংশ নিতে বাধ্য করে। অবহেলাজনিত হত্যার শিকার হলেন হাজারের বেশি শ্রমিক।
বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলায় যুক্তরাষ্ট্র কর্ম পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার শর্ত দিয়ে স্থগিত করে জিএসপি সুবিধা। এরপর সরকার, গার্মেন্টস মালিক ও বিদেশী ক্রেতারা নিহতের স্বজনদের ক্ষতিপুরণ, পূনর্বাসন এবং তৈরি পোশাক খাতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এর সবই প্রক্রিয়াধীন।
আর যাদের অবহেলা, অদূরদর্শিতায় হলো হাজারো প্রাণহানি_সে অপরাধের বিচার হয়নি আজো।
রানা প্লাজা ধ্বসে হাজারো মৃত্যুর এই ভয়াবহ বিপর্যয় নাড়া দিয়েছিল গোটা বিশ্বকে। এমন বিপর্যয় যেন আর কখনও না ঘটে সে জন্য শ্রম আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।