গাজীপুরের সাবেক এমপি ও শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (রোববার)। ২০০৪ সালের এ দিনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গাজীপুরে নিহত হন তিনি। দিনটি পালনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনগুলো নানা কর্মসুচি হাতে নিয়েছে।
২০০৫ সালে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এ মামলার রায় হলেও এতোদিনেও তা কার্যকর না হওয়ায় হতাশ স্থানীয় নেতাকর্মী ও স্বজনরা।
মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও রাজনীতিবিদ আহসানুল্লাহ মাস্টার বেশি পরিচিত ছিলেন শ্রমিক নেতা হিসেবেই। স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ, প্রতিটি নির্বাচনেই জয়ী হয়েছেন বিপুল ভোটে। দু'দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন গাজীপুর-২ আসন থেকে।
২০০৪ সালের ৭ মে তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে দিনের আলোয় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় আহসান উল্লাহ মাস্টারকে।
এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে গাজীপুরবাসী। ৮মে নিহতের ভাই মতিউর রহমান ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে, অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে টঙ্গী থানায় মামলা করেন।
২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার রায় হয়। রায়ে মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ছয় জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। খালাস দেয়া হয় দুই জনকে।
পরে আপিল বিভাগে মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের জেল আপিলের শুনানী শেষে ২০১৬ সালের ১৫ জুন ৬ জনের ফাঁসি, ৮ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১১ জন আসামিকে বেকসুর খালাস দেয় হাইকোর্ট বেঞ্চ।
বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতায় এখনো খুনিদের রায় কার্যকর হয়নি। এ অবস্থায় হতাশ স্বজনরা। মৃত্যুর আগেই রায় কার্যকর হতে দেখে যেতে চান নিহতের মা।
দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি নিহতের ছেলে গাজীপুর-২ এর সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল।
শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুর ও টঙ্গীতে নানান কর্মসুচী নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের।