বনানীতে একটি হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদের বাসায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের ছয় সদস্য ওই বাড়িতে প্রবেশ করে।
তবে সাফাতের বাবা জানিয়েছে, সাফাত বাড়িতে নেই, গতকাল সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কোথায় গিয়েছে তা তিনি জানেন না।
এদিকে, পুলিশ সাফাতের নানা বাড়ি সিলেটেও অভিযান চালিয়েছে। এছাড়া ধর্ষণ-ঘটনার তদন্তে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। এরই মধ্যে বনানি থানার আলোচিত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি বিএম ফরমান আলী পারিবারিক কারণ দেখিয়ে পাঁচ দিনের ছুটিতে গেছেন।
গত ৬ মে বনানী থানায় ৫ জনকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে ধর্ষণের স্বীকার হওয়া একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, এক পরিচিতের জন্মদিনের পার্টিতে অংশ নিতে গিয়ে ধর্ষনের স্বীকার হন তারা। বনানীর রেইনট্রি হোটেলের দুটি কামরায় আটকে রেখে তাদের ধর্ষন করা হয়।
মামলার এক আসামি সাফাত আহমেদ, যার বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ। বাকি আসামিরা হলেন- নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের ড্রাইভার বিল্লাল ও এক দেহরক্ষী।
যে রেইনট্রি হোটেলে ঘটনাটি ঘেটেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো তথ্য দিতে রাজি হয়নি হোটেল কর্তৃপক্ষ।
মামলা নিতে পুলিশ প্রথমে অসহযোগিতা করে বলে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলেও, পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে মামলার পর দুদিন পেরিয়ে গেলেও, এখনো অভিযুক্তদের কাউকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
যদিও পুলিশ বলছে, অপরাধীদের দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে। যতো প্রভাবশালী হোক কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
অর্থের বিনিময়ে অভিযুক্তদের ছাড় দেওয়ার অভিযোগও তারা অস্বীকার করেছেন।
এদিকে, মামলার প্রধান আসামি সাফাতের বাসায় গেলেও, সেখানে সংবাদ কর্মীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি সাফাতের পরিবারের সদস্যদের কাউকে।