ভারসাম্য রক্ষার নির্বাচনী বাজেট উপস্থাপন করলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। নির্বাচনের আগে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে দৃশ্যমান করতে, ২০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হয়েছে বাজেটের আকার। বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে সবচেয়ে বেশি গুরত্ব দেওয়া হয়েছে জ্বালানি বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো খাতে।
এদিকে, সব ধরনের পণ্য ও সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের ফলে বাড়বে মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার খরচ। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি এবং মুল্যস্ফীতি সাড়ে ৫'এ নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজেট নিয়ে গত কয়েকমাসের বিরামহীন ব্যস্ততার শেষ লগ্নে অর্থমন্ত্রী। হাতে সেই বাজেট দলিলের প্রথাগত কালো ব্রিফকেস। গায়ে সবুজ পাঞ্জাবির ওপর কালো মুজিব কোট। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রীকে অনুগমন করে, মন্ত্রিসভার অনুমোদন শেষে, বাজেটের দলিল দস্তাবেজ নিয়ে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন তিনি। আপস.
অধিবেশন কক্ষেও বাজেট পেশের মুখরতা। অর্থনীতির গত ৮ বছরের সফলতার ভিডিও দেখিয়ে বক্তব্য শুরু করেন অর্থমন্ত্রী। আপস.
বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে। যা উন্নয়ন বাজেটের ২৭.৮ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, ১৫.৩ শতাংশ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ১৩.৫ শতাংশ। এতে করে দেশে বিনিয়োগ মন্দা কাটবে বলে আশা অর্থমন্ত্রীর।
উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের পথে অগ্রগিতর জন্য, জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭.৪ শতাংশ। এ জন্য ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারন করা হয়েছে। যা আদায়ে অতিমাত্রায় জোর দেওয়া হয়েছে ভ্যাটের ওপর । কিন্তু প্রতিশ্রুতি দিয়েও, বাড়ানো হয়নি করমুক্ত আয়সীমা। আর মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ। এর ফলে, সরকারের বাড়তি রাজস্বের যোগান দিতে গিয়ে চাপ পড়বে মধ্যবিত্তের উপর।
আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে এটিই অর্থমন্ত্রীর পুর্ণাঙ্গ বাজেট। নির্বাচনের কারণে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে মানুষের উপর বেশি চাপ দেওয়া যাবে না। তাই ব্যবসায়ী ভোক্তাদের দাবি উপেক্ষা করে, এ বাজেটেই রাজস্ব আদায়ে অগ্রিম চাপ দেওয়া হয়েছে।