রাঙামাটির লংগদুর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
রোববার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সরকার সে জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, লংগদুতে পাহাড়িদের গ্রামে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তিনশো জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০-১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও ধরার প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়া তিনি বলেন, যে কোনো সময় গুলশানে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় চূড়ান্ত চার্জশিট দেওয়া হবে। এরপর জড়িতদের যথাযোগ্য বিচার শুরু হবে আর বিচারও শেষ করা হবে দ্রুত। দেশবাসী যাতে আসছে রোজার ঈদ নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেন, সে জন্য আইনশৃংখলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
নারায়নগঞ্জে অস্ত্র উদ্ধার সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে।
এদিকে, রাঙামাটির লংগদুতে সহিংসতার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক পাহাড়ি পরিবার খোলা আকাশের নীচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় তিনটিলা বৌদ্ধ বিহারে আশ্রয় নিয়েছেন কয়েকটি পরিবার। বন্ধ রয়েছে এলাকার বেশিরভাগ দোকান-পাট। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পার্বত্য শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমাসহ পাহাড়ি নেতারা।
এদিকে, লংগদু সহিংসতার ঘটনায় আরো তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় ১০ জন বাঙালি বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করা হলো। এ ঘটনায় তিনশ জনকে আসামী করে মামলা করেছিল পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ির দীঘিনালা এলাকায় লংগদু যুবলীগ নেতা নূরুল ইসলাম নয়নের মৃতদেহ পাওয়া যায়। শুক্রবার নয়নের মৃতদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করার সময় লংগদু উপজেলা সদরের পাহাড়িদের চারটি গ্রামের আড়াইশটিরও বেশী ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।