সৌদি-কাতার বিবাদে বাংলাদেশেরও বিপদ হতে পারে বলে আশংকা করছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। তাদের মন্তব্য, যদি এই বৈরিতা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি রক্ষা করা মুশকিল হতে পারে। আর বেসামরিক ও বিমান মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বিমান চলাচল কিংবা জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনও বৈরি প্রভাব পড়বেনা।
এদিকে, গত তিন দিনে এ পর্যন্ত সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অর্থায়নের অভিযোগ তুলে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ কাতারের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। এসব দেশ এরই মধ্যে বিমান, স্থল এবং সড়ক যোগাযোগও বন্ধ রেখেছে।
ইসলামিক স্টেট-আইএস, আল কায়েদা, মুসলিম ব্রাদারহুডসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনকে মদদ দিচ্ছে এ অভিযোগ তুলে গত সোমবার থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, বাহরাইন, ইয়েমেন কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়। সবশেষ দ্বীপ রাষ্ট্র মালদ্বীপও সৌদির সিদ্ধান্ত অনুসরনের পথ বেছে নিয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে? কেননা, মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব ও কাতার এই দুটি দেশই বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার। ২০২২ সালে হতে যাওয়া বিশ্বকাপকে ঘিরেও দেশটিতে জনশক্তি রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, গেল বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বে যে সামরিক জোট গড়ে ওঠে তার অংশীদারও বাংলাদেশ।
এ প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব হয়ত বাংলাদেশের ওপর পড়বে না তবে দুই আরব দেশের এ দ্বন্দ্বের ভেতরকার বিভিন্ন উপাদান এবং যদি কোনো চাপ আসে তাহলে বাংলাদেশের জন্য সিদ্ধান্তগ্রহণে জটিল হবে।
এদিকে, সৌদি-কাতারের এই বিবাদ সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়, বাংলাদেশের এ পররাষ্ট্রনীতিতে নিজেদের ঠিক রাখাও চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন সাবেক এই কূটনীতিক। সেক্ষেত্রে নিজের স্বার্থ রক্ষা করেই সিদ্ধান্ত নেয়ার পরামর্শ তার।
আর এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, সৌদি-কাতার বিবাদ বাংলাদেশের ওপর কোনও ভাবেই প্রভাব পড়বে না।
এর আগে ২০১৪ সালে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল সৌদি আরব। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে এবার ঘোষণাটি এল যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টের সৌদি সফরের পর, যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কঠোর হুশিয়ারি ছিল।