শ্রমিক পাচার, গৃহকর্মীকে নির্যাতন এবং মজুরি না দেয়ার অভিযোগে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার সকালে নিউইয়র্কের পুলিশ তাকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করার কয়েক ঘণ্টা পর কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে হাজির করে।
কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি রিচার্ড ব্রাউন বলেন, বিচারক ড্যানিয়েল লুইস ৫০ হাজার ডলারের বন্ড বা নগদ ২৫ হাজার ডলারে তার জামিন ঠিক করে তার পাসপোর্ট জব্দ করার নির্দেশ দেন।
অ্যাটর্নি ব্রাউন বলেন, সীমিত কূটনৈতিক দায়মুক্তিসহ কনস্যুলার অফিসার হিসেবে দায়িত্বরত শাহেদুলের বিরুদ্ধে এক বিদেশিকে এনে তার কুইন্সের বাসায় রেখে ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মে পর্যন্ত বিনা মজুরিতে জোরপূর্বক কাজ করানোর ঘটনায় শ্রম পাচার ও নির্যাতনসহ অভিযোগ ৩৩ ধরনের ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের শেষ দিকে শাহেদুল বাংলাদেশ থেকে মোহাম্মদ আমিন নামে একজনকে গৃহকর্মী হিসেবে নিউইয়র্কে এনে তার পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দ করেন। তাকে দিয়ে দৈনিক ১৮ ঘণ্টা কাজ করালেও বিনিময়ে ‘একটি পয়সাও’ দেয়া হয়নি। মজুরি দাবি করলেই আমিনকে মারধর করা হতো। নির্যাতনে অতীষ্ট হয়ে কাজ ছেড়ে দেয়ার কথা বললে শাহেদুলকে হত্যার হুমকি- এমনকি বাংলাদেশে তার বৃদ্ধা মা ও ছেলে-মেয়েকেও হত্যার হুমকি দেন। নির্যাতনে অতীষ্ঠ হয়ে গত বছরের মে মাসে আমিন পালিয়ে পুলিশের কাছে গিয়ে ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিচার চান।
অ্যাটর্নি ব্রাউন বলেন, কূটনৈতিক মর্যাদায় বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে ডেপুটি কনসাল জেনারেল যে আচরণ করেছেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও প্রায় চার বছরের ওভারটাইমসহ বেতন ও যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করতে হবে।
জামিন পেলে মামলার শুনানির জন্য আগামী ২৮ জুন শাহেদুলকে আবার আদালতে হাজির হতে হবে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান জানান, তারা ৫০ হাজার ডলারের বন্ড সংগ্রহ করতে সক্ষম হলেও শাহেদুল ইসলামের মুক্তির আনুষ্ঠানিকতায় আরও ২৪ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।