বিদ্যুতের ওপর ভ্যাট নিয়ে রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে হিসাব মিলছে না সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের।
রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, ভ্যাটের হার বাড়লেও, বিদ্যুতের খরচ বাড়বে না।
কিন্তু বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর দাবি, খরচ বাড়বে প্রায় ৮ শতাংশ, বাজেট পাস হওয়ার আগেই এনবিআরকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানান তিনি।
এর পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুতের ওপর থেকে সব ধরনের কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এলএনজি আমদানি শুরু হলে গ্যাসের ওপর থেকে বিদ্যমান ৪২ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
সরকারের দুই মেয়াদে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ৮ বার। এর ওপর আবার ভ্যাটের হার ৫ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
এর প্রভাবে জীবন যাত্রার ব্যয় কতটা বাড়বে তা নিয়ে শঙ্কিত সাধারণ মানুষ।
কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর মানুষকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে ভ্যাট বাড়লেও বিদ্যুতের দাম বাড়বে না। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণে কর রেয়াত নিয়ে, বিদ্যুৎ বিভাগ দাম সমন্বয় করতে পারবে বলে দাবি তাদের।
কিন্তু, এনবিআরের এ হিসাব মানছেন না প্রতিমন্ত্রী। তার হিসেবে, ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ করা হলে খরচ বাড়বেই।
বর্তমানে ৪২ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ১৩ শতাংশ ভ্যাট এবং অন্যান্য কর মিলিয়ে গ্যাসে প্রতি ১০০ টাকায় প্রায় ৮২ টাকা সরকার কর হিসেবে নিয়ে নেয়। বিদ্যুতেও বিভিন্ন উপকরণে বিভিন্ন ধাপে ধাপে কর আরোপ করা হয়েছে।
বিদ্যুতের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে তাই সব পর্যায়ের কর প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
বিদ্যুতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপে প্রায় ৮ শতাংশ খরচ বাড়ার চাপ সরকার নেবে, না জনগণের ওপর চাপানো হবে- বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনেই তা চুড়ান্ত হবে।