চট্টগ্রামে পাহাড়ধস ঠেকাতে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির দেয়া ৩৬টি সুপারিশ দশ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। বর্ষা এলেই কিংবা পাহাড়ধসের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসলেও, কিছুদিন পরই সেই দৌঁড়ঝাপ বন্ধ হয়ে যায়। পাহাড়ধস ঠেকাতে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের তাগিদ দিলেন বিশেষজ্ঞরা।
আর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দিয়ে কাজ করানোর কথা বললেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
২০০৭ সালে চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড়ধসে ১২৭ জনের প্রাণহানির পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। সেসময় পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি নানা তদন্ত, গবেষণা করে পাহাড় ধসের ২৮ টি কারণ চিহ্নিত করে এবং দুর্ঘটনা রোধে ৩৬টি সুপারিশ করে। তবে দশ বছরেও সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হয়নি।
তখনকার কমিটি যে ২৮টি কারণ উল্লেখ করেছিলো তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো-ভারি বর্ষণ, পাহাড়ে বালির আধিক্য, ওপরিভাগে গাছ না থাকা, গাছ কেটে ভারসাম্য নষ্ট করা, পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস গড়ে তোলা, পাহাড় থেকে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রাখা, বনায়নের অভাব, বর্ষনে পাহাড় থেকে নেমে আসা বালি ও মাটি অপসারণের দুর্বলতা।
আর সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো, পাহাড়ের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে হাউজিং প্রকল্প না করা, নিষ্কাশন ড্রেন ও মজবুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা, মতিঝর্ণা ও বাটালি হিলের পাদদেশে অবৈধ বস্তি উচ্ছেদ করে পর্যটন স্পট করা, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসতি স্থাপন না করা, পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
তবে এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কোন সুপারিশই বাস্তবায়ন হয়নি। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারিদের অন্যত্র পুনর্বাসনের উদ্যোগ থাকলেও সেটা বাস্তবায়ন হয়নি।
নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে না।
এলাকার জনপ্রতিনিধি আর সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে কাজ করে এ সমস্যার সমাধান বের করার কথা জানালেন লালখান বাজারের ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ এফ কবির আহমেদ মানিক।
তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, বৃষ্টি বা পাহাড় ধস হলেই তৎপর হয় প্রশাসন। মেয়র ও স্থানীয় সংসদ সদস্য না চাইলে এ সমস্যা মিটবে না।
গত মঙ্গলবার ভোরে পাহাড় ধসে চট্টগ্রাম জেলাতেই ৩০ জনের মৃত্যু হয়।