পবিত্র ঈদ উল ফিতর- এলো খুশির ঈদ। আনন্দ-উৎসব আর সম্প্রীতির কোলাহলে মেতে থাকার দিন।
পবিত্র মাহে রমজানের এক মাস সংযম সাধনার পর ঘরে ঘরে সুখ আর আনন্দের বার্তা বয়ে আনলো ঈদ আনন্দ।
সোমবার সারাদেশের মানুষ উৎসাহ উদ্দীপনায় মিলবে ঈদের উচ্ছ্বাসে। দেশের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে।
ঈদ সবসময়ই আনন্দের-উৎসবের; বড় আড়ম্বরের এক দিন। ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে শামিল হয়ে আনন্দ ভাগাভাগির দিন, ধনী-গরিব সব শ্রেণী-পেশার, সব ধর্মের মানুষের। এ উৎসব সর্বজনীন।
কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় ঘটেছে রুপান্তর; ভিন্নতা এসেছে ঈদ উদযাপনের ধরনে। দেশ-সমাজে আধুনিকতার যোগ, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন আর যান্ত্রিকতা-এসবই পরিবর্তনের অন্যতম অনুষঙ্গ। এখন আর বসেনা ঈদ মেলা, হয়না ঈদ র্যা লি। ঘোরাঘুরি, খাওয়া, আড্ডা আর বিনোদন কেন্দ্র এই এখনকার ঈদ উদযাপনের ধারা।
বহুকাল ধরেই এদেশে ঈদ আনন্দ-উৎসবের সবচেয়ে বড় উপলক্ষ্য। ঈদ এলেই অন্যসব উৎসবের মাত্রা ছাড়ায়; আত্মিক বন্ধনে মিলিত হয় ধনী-গরিব সব শ্রেণী-পেশার, সব ধর্মের মানুষ। এ উৎসব সর্বজনীন। শুধু ঈদের সময়ই নয় রমজানের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে ঈদের পর অনেকটা সময় জুড়েই থাকে উৎসবের আবহ। চলে কেনাকাটা, নানা ঝক্কি ঝামেলা পেরিয়ে বাড়ি যাওয়া; সবশেষে পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশী সবার সঙ্গে ঈদ উদযাপন। এ আনন্দ-উৎসবে শামিল সবাই। উৎসবের কমতি থাকে না রাজধানীতেও
একটা সময় ছিলো, যখন ঈদের দিনে ঢাকায় বের হতো আনন্দ মিছিল; বসতো ঈদ মেলা। আর এখন বদলেছে সময়, ভিন্নতা এসেছে ঈদ উদযাপনে। ঐতিহ্যবাহী নাগরদোলা আছে ঠিকই তবে তা কাঠের বদলে রূপ নিয়েছে যান্ত্রিক চরকায়। ছেলে-বুড়ো, তরুণ-তরুণীদের এখনকার ঈদ কাটে ঘুরে বেড়িয়ে, সিনেমা দেখে কিংবা আড্ডা দিয়ে।
সময়ের স্রোতে রাজধানী ঢাকায় বেড়েছে মানুষ; নগরীতে লেগেছে আধুনিকতা-যান্ত্রিকতার ছোঁয়া। আগেকার দিনের তুলনায় এখনকার ঈদ আনন্দ আর উদযাপনের পার্থক্য খুবই স্বাভাবিক ঘটনা।
ঈদের উৎসবের মাত্রা আগের থেকে বেড়েছে অনেক গুন-ইতিহাসবিদদের একথার সঙ্গে দ্বিমত পোষন করতে পারেন অনেকেই। বলতে পারেন দিনকে দিন ঈদ হারাচ্ছে জৌলুস; ঢিলে হচ্ছে আত্মিক বন্ধন। কিন্তু কালের বিবর্তনে ঈদ উদযাপনের ধরনে পরিবর্তন এসেছে ঠিকই। তবে, ঈদের শিক্ষা আর সাম্যের বার্তা ম্লান হয়নি এতটুকু।