রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজানে দেশের ইতিহাসে ভয়ঙ্কর ও নৃশংস জঙ্গি হামলার একবছর।
হলি আর্টিজানে হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশি, দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২২ জনকে হত্যার সেই বিভীষিকার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে একের পর এক। নস্যাৎ হয়েছে জঙ্গিদের বহু চক্রান্ত, নিহত হয়েছে অনেক শীর্ষ জঙ্গি। বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা।
তারপরও বিশ্লেষকরা মনে করেন, জঙ্গি-সন্ত্রাসের বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে দেশীয় জঙ্গিরা থেমে নেই। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের একমাত্র পথ নয়, প্রয়োজন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক জনসচেতনতা। এর মাধ্যমেই তরুণদের সঠিক পথ দেখাতে হবে।
জঙ্গি-সন্ত্রাসে বিপর্যস্ত ভয়ঙ্কর এক রাতের রক্তাক্ত স্মৃতি নিয়ে ফিরে এসেছে আবার ১ জুলাই। সে এক বিভীষিকা। জঙ্গি আতঙ্ক গ্রাস করে বাংলাদেশকে।
গতবছর রোজায় তারাবি নামাজের পর নগরীতে রাতের শুনশান নীরবতাকে ভেঙে দেয় মুহুর্মূহু গুলি-বোমার শব্দ। সবসময় কঠোর নিরাপত্তা নজরদারিতে থাকা রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকায় ঢুকে পড়ে জঙ্গিরা। গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সশস্ত্র হামলা চালায় ৫ জঙ্গির দল। গোটা রেস্তরাঁর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সবাইকে জিম্মি করে একে একে হত্যা করে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে।
যাদের মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি এবং একজন ভারতীয়। জঙ্গিদের প্রথম আক্রমণেই নিহত হন ২ পুলিশ কর্মকর্তা। রাতভর জিম্মি হন ২৪ জন। প্রায় ১১ ঘণ্টা পর সেনা কমান্ডোদের অপারেশন থান্ডারবোল্টের মাধ্যমে তারা উদ্ধার পান। এছাড়া রাতেই বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার হয় আরও ৭ জন। পালাতে গিয়ে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এক রেস্তোরাঁকর্মী।
উল্লেখ, ২০০৫ সালে এমনই আরেক জঙ্গি হামলায় কেঁপেছিল বাংলাদেশ। জামায়াতুল মুজাহিদিন-জেএমবির জঙ্গিরা একযোগে বোমা বিস্ফোরণের ঘটায় ৬৩ জেলায় ৫০০টি স্থানে। তবে হতাহতের ব্যাপকতা ছিল না। সেই জেএমবি একসময় নিষিদ্ধ হয়েছিল। ধারণা ছিল, হয়তোবা জঙ্গিরা নিষ্ক্রিয় হয়েছে। কিন্তু তলে তলে সেই জঙ্গিরাই সক্রিয় থেকে ফিরেছে আরো বেপোরোয়া নব্য জেএমবি নামে। দেশে তেমন ভয়ঙ্করতম, নৃশংস হামলার দৃষ্টান্ত হয়, যায় হলি আর্টিজানের হামলা।
এভাবেই স্পষ্ট হয়েছে জঙ্গিবাদের শেকড়। পাঁচ হামলাকারীর বৃত্তান্তে দেখা গেছে, অভাবী ঘরের স্বল্প-শিক্ষিত বা শুধু মাদ্রাসা পড়ুয়ারা নয়, স্বাধীনতাবিরোধী জামাতি ঘরানার উগ্র ধর্মান্ধ-বলয়ের আগ্রাসী রাজনৈতিক শেকড়ে যুক্ত হয়েছে বিত্তবানদের লেখাপড়া জানা তরুণরাও। যে কারণে নিরাপত্তা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ওই হামলার ক্ষত এবং বিপদ এখনও রয়েছে। তাহলে কীভাবে সম্ভব জঙ্গিবাদের উৎস নির্মূল?
এর মধ্যে বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিদের আস্তানায় একের পর এক অভিযান চালিয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী। নিহত হয়েছে শীর্ষ জঙ্গি-হোতারা। নস্যাৎ হয়েছে অনেক জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা। তারপরও এসব অভিযান জঙ্গি নির্মূলে কতটুকু সফল সে প্রশ্ন বিশ্লেষকদের। কারণ শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে কোনো দেশেই জঙ্গি দমন হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, জঙ্গিরা পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। তবে জঙ্গি কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।