রাজধানীর গুলশান হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে খুলে দেয়া হয় ভবনটি।
শনিবার সকালে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবে ও ইতালির রাষ্ট্রদূত মারিয়া পালমা। তার পরেই আসেন জাইকার প্রতিনিধি দল। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষজনও শ্রদ্ধা জানান নিহতদের প্রতি।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য অসাম্প্রদায়িক চেতনার সেই জায়গাটিতে হলি আর্টিজানের ঘটনা বড় আঘাত। কখনই ভাবিনি এ রকম একটি ঘটনা ঘটতে পারে।
এক বছর আগে হলি আর্টিজান বেকারি ও রেস্তোরাঁর এ ভবনেই হত্যা করা হয় ১৭ বিদেশি, দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২২ জনকে। এক বছরপূর্তিতে ভবনটির মালিক উন্মুক্ত করে দেন বাড়িটি। তৈরি করা হয় অস্থায়ী বেদী। সেখানেই সকাল থেকে সবাই নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সকালে ইতালী ও জাপানের রাষ্ট্রদূতরা হলি আর্টিজানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ওইসময় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। এরপর জাইকার পক্ষ থেকেও নিহদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। নিহত বিদেশিদের স্বজনরাও আসেন শ্রদ্ধা জানাতে।
এসময় বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিককর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যরা নিহতদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। তারা বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে সাংস্কৃতিক চর্চা খুবই প্রয়োজন।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ সফল। কিন্তু জঙ্গি নির্মূলে আদর্শিক লড়াই চালাতে হবে, শক্তি দিয়ে জঙ্গিবাদ নির্মূল সম্ভব নয়।
তিনি আরো বলেন, সাময়িকভাবে সম্ভব হলেও জামাত-শিবির, মওদুদীবাদী, ওয়াহাবিবাদী ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে এরাই আসলে মানুষকে ধর্মের বিষয়ে ভুল বার্তা দিচ্ছে।
বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয় নিহতদের প্রতি।
৭৯ নম্বর সড়কে যাওয়ার তিনটি পথেই ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। পুলিশের গাড়ি ও সীমিত কয়েকটি গাড়ি ছাড়া আর কোনো গাড়ি ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। সড়কের মোড়ে গণমাধ্যমকর্মীরা রয়েছেন। তবে তাঁদের ভেতরে যেতে দেওয়া হয়নি।
গুলশানের কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনরত পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) মো. জসীমউদ্দিন বলেন, জাপানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জাইকার প্রতিনিধি, ইতালির রাষ্ট্রদূত এবং তাদের দলের সঙ্গে নিহত একজনের স্বজন ছিলেন।
এসময় অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, পুলিশের অভিযানের কারণে দেশে জঙ্গি তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) আছাদুজ্জামান মিয়া, পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন ও অপারেশনস) মো. মোখলেসুর রহমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন।