রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার মামলায় তদন্ত সংস্থা-পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা তদন্ত অনেকটাই গুটিয়ে এনেছেন। শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া যাবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, তারা নির্ভুল অভিযোগপত্র দিতে চান।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই ঘটনায় হামলাকারী পাঁচ জন হলেও এর সঙ্গে সরাসরি ২২ জন জঙ্গি বিভিন্নভাবে জড়িত ছিল। যাদের ১৩ জন নিহত হওয়ার পর এখন পুলিশের জিম্মায় আছে ৪ জন। পলাতক আর ৫ জঙ্গিকে ধরা গেলেই তদন্ত শেষ করা যাবে। তবে ওই জঙ্গি হামলায় আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস-এর সঙ্গে নব্য জেএমবির সম্পৃক্ততার বিষয়েও তারা এখনো নিশ্চিত নন।
দেশে জঙ্গি আছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জাল ভেদ করে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে তারা তৎপর। অতর্কিতে বা চোরাগোপ্তা হামলায় তেমন সশস্ত্র তৎপরতা জঙ্গিরা দেখিয়েছেও বেশ কয়েকবার।
গতবছর ১ জুলাই, রোজার মাসে রাতের নীরবতা ছাপিয়ে যেভাবে বাংলাদেশ সশস্ত্র হয়েছিল তা নজিরবিহীন। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ার হলি আর্টিজান বেকারি অ্যান্ড রেস্তরাঁয় ভয়াবহ সেই সংঘবদ্ধ জঙ্গি হামলায় আতঙ্ক ছড়িয়েছিল বিশ্বব্যাপী।
একবছরের মাথায় সেই ঘটনার তদন্ত শেষ না হলেও পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে হামলাকারী পাঁচ জনই ছিল নব্য জেএমবির সদস্য। এদেশে জঙ্গিবাদের বীজ বোনার সময়কালের সংগঠন যাকে সরকার নিষিদ্ধও করে বহু আগে সেই জামাআতুল মুজাহিদিনের নতুন ধারা হচ্ছে, নব্য জেএমবি। পাঁচ জঙ্গি নারকীয় সন্ত্রাস চালিয়ে হত্যা করে দেশি-বিদেশি ২০ জনকে। আরো বেশ কয়েকজনকে জিম্মি করে রাখলেও সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে জঙ্গিরা নিহত হলে তারা উদ্ধার পায়।
পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট তদন্ত করতে গিয়ে জেনেছে, এই হামলার সামনে-পেছনে যুক্ত ছিল ২২ জঙ্গি। এর মধ্যে পাঁচজনকে ঘটনাস্থলে হত্যা করার পর জঙ্গিবিরোধী বিভিন্ন অভিযানে আরো মারা পড়েছে ৮ জন। এর বাইরে পুলিশের হাতে আরো ৪ জন ধরা থাকলেও বাকি ৫ জঙ্গিকে এখনো জালে আটকানো যায়নি। এতেই থমকে আছে তদন্ত।
তদন্ত এগুনোয় এটাও বলা যাচ্ছে, হলি আর্টিজানে ওই হামলার মধ্য দিয়ে জঙ্গিদের উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর সমর্থন আদায়। তবে আইএস-এর সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
তদন্তকারী কাউন্টার টেররিজম ইউনিট বলছে, হামলার পরিকল্পনাকারী পলাতক পাঁচ জনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা তারা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়া সেনা কমান্ডো অভিযানে নিহত ৫ জঙ্গির ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে আসাটাও তদন্ত শেষ করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে আরো তদন্ত প্রয়োজন, জঙ্গিদের অস্ত্রের উৎস খুঁজে বের করতেও। এর মধ্যে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
তদন্তের এমন পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, শিগরিরই হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হবে। তবে তারা চান নির্ভুল একটা অভিযোগপত্র দিতে।