বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক দেশে বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা যার কাছে রয়েছে— সরকার সেটিই প্রবর্তন করতে চেয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ প্রতিক্রিয়া দেন।
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়ার রায় বহাল রাখায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের সামনে প্রশ্ন তোলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপন কীভাবে সংবিধান পরিপন্থী হয়?
তিনি আরো বলেন, বিচারপতিদের অপসারণে সামরিক সরকারের করা সুপ্রমি জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আদালত কেন সাংঘর্ষিক মনে করছেনা তা, বোধগম্য নয়। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পরেই সরকারের পক্ষ থেকে করণীয় ঠিক করার উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন তিনি।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক রায়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে বিচারপতিদের অপসারনের ক্ষমতা পার্লামেন্টের কাছে থাকলে বাংলাদেশে ব্যতিক্রম কেন হবে তা তার বোধগম্য নয়।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিল করে দেয়া, হাইকোর্টের রায় বহাল রাখায় এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা।
আর সকালে কাওরান বাজারে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, এ রায় বহাল রাখায় জাতি হতাশ এবং বাহাত্তরের সংবিধানের মূলচেতনা থেকে ভিন্ন।