কবি, প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার মঙ্গলবার নিজ জিম্মায় বাসায় ফিরেছেন।
মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম আহসান হাবীব তার জবানবন্দি রেকর্ড করে ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় তাকে নিজ জিম্মায় বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেন।
এ সময় আদালত ফরহাদ মজহারের কাছে জানতে চান, তিনি নিজ জিম্মায় বাড়ি যেতে চান কি না? জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই যেতে চাই।
পরে আইনজীবীর মাধ্যমে ফরহাদ মজহারের নিজ জিম্মায় মুক্তি চাওয়ার বিষয়ে শুনানি হলে আদালত তা মঞ্জুর করে।
ফরহাদ মজহারের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে একটি মাইক্রোবাসে করে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন ফরহাদ মজহার। এ সময় সাংবাদিকরা তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি রাজি হননি
এর আগে কবি-প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারকে চোখ বেঁধে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে জানায় পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশকে এ কথা জানিয়েছেন— পুলিশ তার এ বক্তব্য খতিয়ে দেখছে কথাগুল বলেন যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন।
মঙ্গলবার বেলা সোয়া একটার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান তিনি।
সোমবার ভোরে রাজধানীর শ্যামলীর বাড়ি থেকে ওষুধ কিনতে বের হওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে।
১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য ফরহাদ মজহারকে আদালতে তোলা হয়।
দিনভর নানা জল্পনা শেষে নিখোঁজের ১৮ ঘণ্টা পর সোমবার রাতে নাটকীয়ভাবে যশোরের নোয়াপাড়ায় ঢাকাগামী একটি বাসে ফরহাদ মজহারের হদিস পায় র্যা ব।
সোমবার ভোরে রাজধানীর নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তার পরিবার।
দিনভর নানা জল্পনা-কল্পনার পর সোমবার রাতে যশোরের নোয়াপাড়ায় হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করা হয়। খুলনায় এক হোটেল মালিকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে উদ্ধার করে র্যা ব। সেখান থেকে তাকে খুলনায় নিয়ে রাত দেড়টায় দিকে ঢাকার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরের আগে খুলনার ফুলতলায় সংবাদ সম্মেলন করে র্যা ব।
খুলনা থেকে ঢাকায় আনার পর মঙ্গলবার সকালে প্রথমে তাকে আদাবর থানায় নেয়া হয়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও স্বজনরা। পরে রাজধানীর মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ফরহাদ মজহারকে।
ব্রিফিংয়ে ডিবির ডেপুটি কমিশনার আব্দুল বাতেন জানান, ফরহাদ মজহার আদালতে জবানবন্দি দেয়ার পর জানা যাবে এটি অপহরণ নাকি স্বেচ্ছায় ভ্রমণ।