দেশের তের জেলার সাড়ে ছয় লাখ মানুষ চলমান বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।
বুধবার সকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
বন্যা নিয়ে রাজনীতি না করে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে দুর্গত মানুষ যেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলা প্রশাসকদের নির্দেশও দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এরইমধ্যে উত্তরাঞ্চলসহ এর আশপাশের ১৩টি জেলা বন্যা কবলিত হয়েছে। পানি না কমলে আরও এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। তবে সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে।
এরই মধ্যে বন্যা কবলিত এলাকায় চার হাজার মেট্রিক টন চাল, প্রায় সোয়া এক কোটি টাকার আর্থিক বরাদ্দ এবং নয়টি আইটেম সমৃদ্ধ সাড়ে ১৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণের কোনও ঘাটতি নেই বলে জানান তিনি।
তিস্তা নদী থেকে পানি আসার কারণেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে তিস্তা ইস্যুতে আলোচনা চলছে।
গত কয়েকদিনে উজানের ঢল ও ভারি বর্ষণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মোট তের জেলা ভয়াবহ ভাবে বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ওইসব জেলার ৪৫ উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি এখন।
এ নিয়ে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এরই মধ্যে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হয়েছে এবং কোনও ঘাটতি নেই।
এদিকে, এ অবস্থায় আরও বন্যা হতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস রয়েছে।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগাম বন্যা মোকাবেলায় ও সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে বন্যা নিয়ে যেন কেউ রাজনীতি না করে সে আহ্বানও জানান তিনি।