তথ্য অধিকার আইন ও প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্টের সম্পূর্ণ পরিপন্থি আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা।
সাউথ এশিয়ান ফ্রি মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন-সাফমা আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা এ মন্তব্য করেন।
তারা বলেন, একদিকে তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা অন্যদিকে আবার তথ্য প্রচারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার যে আইন রয়েছে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রোধ করা ছাড়া আর কিছুই নয়।
আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় গণমাধ্যম কর্মীদের হয়রানী বন্ধ করে সাংবাদিকদের অপরাধ বিচারে প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্টকে কার্যকর করার সুপারিশ করেন তারা।
অনলাইনে প্রকাশিত কোনও ব্যক্তির তথ্য যদি নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ করে এতে যদি কারও মানহানি ঘটে, রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় তবে তা হবে অপরাধ।
এর শাস্তি অনধিক ১৪ বছরের কারাদণ্ড এবং অনাধিক ১ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে আইসিটি আইনের বির্তিকত ৫৭ ধারায়।
গণমাধ্যমকর্মীরা মনে করেন তথ্য পাওয়া বা জানানোর অধিকারে সরকার যে "তথ্য অধিকার আইন" প্রণয়ন করেছে তার সঙ্গে এই ধারা সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের যে মর্যাদা দিয়েছেন তারও পরিপন্থি এ ৫৭ ধারা।
আইসিটি আইনের অজামিনযোগ্য এ ৫৭ ধারা প্রয়োগের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদেরও ওপরই বেশী আরোপ হয় বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।
এ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু যে বক্তব্য দিয়েছেন তারও সমালোচনা করেন আলোচকরা।
উল্লেখ, ২০০৬ সালে প্রণয়ন করা আইসিটি আইন ২০০৯ এবং ২০১৩ সালে দুই দফা সংশোধন করে ৫৭ ধারায় সাজা বাড়িয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান ও অজামিনযোগ্য করা হয়।