বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারিক সালমনের বিচারক আলী হোসাইনকে প্রত্যাহারের সুপারিশ সুপ্রিমকোর্টে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীতে এ কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
গতকাল সালমনকে নাজেহালের ঘটনায় দুই জেলা প্রশাসককে সরিয়ে দেয়ার পর এবার বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিমকে বদলির জন্য সুপ্রিম কোর্টে প্রস্তাব পাঠিয়েছে সরকার।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (বিচার ও প্রশাসন) সাব্বির ফয়েজ বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের ওই প্রস্তাবের চিঠি হাতে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, ও্ই চিঠিতে বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম আলী হোসাইনকে অন্যত্র বদলি করার কথা বলা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সুপ্রিম কোর্টের জেনারেল অ্যাডমিন্টিস্ট্রেশন কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা আইন মন্ত্রণালয়কে জানাবে।
গতকাল- ইউএনও সালমনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইন অবমাননার প্রমাণ পাওয়া যায়নি জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদে এ নিয়ে আলোচনা করা হয় বলে জানান তিনি।
তারিক সালমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানহানি মামলা ও এর জের ধরে তাকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না সেটা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলে জানান সচিব।
কমিটিতে একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্ব পাঁচ সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিতে জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একজন করে প্রতিনিধি রয়েছেন। কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্য প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ওই ঘটনায় ইউএনও গাজী তারিক সালমনের কোনো দোষ না পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (তৎকালীন) যে চিঠি দিয়েছিলেন সেটি খারিজ করে নথিজাত করা হয়েছে।
এরইমধ্যে বরিশাল ও বরগুনার জেলা প্রশাসককে সরানো হয়েছে।
এর আগে গতকাল তার বিরুদ্ধে করা মানহানির মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
রোববার বাদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ওবায়েদ উল্লাহ সাজু মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন।
সকালে শুনানি শেষে বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম অমিত কুমার দে আবেদনটি মঞ্জুর করে মামলা খারিজের আদেশ দেন।
এদিকে, ওই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নাজেহালের দিন বরিশালের আদালতে দায়িত্বরত পুলিশের ছয় সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তারা হলেন: এসআই নিরিপেন দাশ, এটিএসআই শচীন ও মাহবুব এবং কনস্টেবল জাহাঙ্গীর, হানিফ ও সুখেন।
বরিশাল মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সহকারী কমিশনার নাসিরুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, শনিবার রাতে প্রশাসনিক কারণে তাদের আদালত থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত: পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি দিয়ে স্বাধীনতা দিবসের আমন্ত্রণপত্র ছাপানোয় আগৈলঝাড়ার সাবেক ইউএনও গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ওবায়েদ উল্লাহ সাজু।
গত বুধবার বঙ্গবন্ধুর ‘বিকৃত’ ছবি আমন্ত্রণপত্রে ব্যবহারের অভিযোগের ওই মামলায় বরিশাল মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন, পরে তা নাকচ করে তাকে হাজতে পাঠায়, দুই ঘণ্টা পর আবার জামিন দেন একই বিচারক।
আদালত প্রাঙ্গনে বর্তমানে বরগুনা সদরের ইউএনও তারিককে পুলিশ ধরে নেয়ার ছবি প্রকাশ হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে বিবৃতি দেয় সরকারি কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃত করে কার্ড ছাপানোর অভিযোগে একজন ইউএনও গ্রেপ্তারের ঘটনায় খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিস্মিত হন।
এ ঘটনায় সারাদেশে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে মামলার বাদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ওবায়েদ উল্লাহ সাজুকে দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।