এবার মাদকদ্রব্য ইয়াবা'র লাগাম টেনে ধরতে এরসঙ্গে জড়িতদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন করতে যাচ্ছে সরকার জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
কামাল বলেন, ইয়াবা বহন, বিক্রি সহজলভ্য হওয়ায় বর্তমানে এর বিস্তৃতি প্রান্তিকপর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে আর ভয়াবহ মাদকের কবলে পড়ছে দেশের যুব সমাজ।
এসব বিষয়কে মাথায় রেখে নানা উদ্যোগের পাশাপাশি ইয়াবাকে "ক" শ্রেণির মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শিশু ও যুবাদের প্রতি মনোযোগ দেয়াই তাদের নিরাপদ বেড়ে ওঠার প্রথম পদক্ষেপ" এ শ্লোগানকে সামনে রেখে আগামীকাল-২৬ জুলাই আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্যের অপব্যাবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস উদযাপনের উদ্দেশ্যে সংবাদ সম্মেলন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে স্বরাস্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সরকার মাদকদ্রব্যের অবাধ ব্যবসা ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আনতে কাজ করছে।
ইয়াবা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ইয়াবা বহন এবং কেনা-বেঁচা সহজ হওয়ায় এর ব্যবহার দিন দিন শহর থেকে গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ছে। আর এই মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ছে যুবসমাজ। সরকার এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় এরই মধ্যে জেলা উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করে দিয়েছে। এখন আইন প্রণয়নেরও শেষ পর্যায়ে।
ইয়াবাকে মাদকদ্রব্য পর্যায়ে এনে এর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া পাশের দেশ থেকে যাতে মাদকদ্রব্য ঢুকতে না পারে সেজন্য ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে।
বিএসএফ-বিজিবির পাশাপাশি মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সঙ্গেও যৌথভাবে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে। সরকারের এসব উদ্যোগের সঙ্গে সামাজিকভাবেই মানুষকে সচেতন করার তাগিদ দেন স্বরাস্ট্রমন্ত্রী।