কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে নাশকতার ঘটনা ঘটালে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা জরিমানা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনটির খসড়া অনুমোদিত হয়।
এ শাস্তির বিধান রেখে বিদ্যুৎ আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা আর বাসাবাড়ি কিংবা শিল্প-কারখানা বা বাণিজ্যিক কাজে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধানও রয়েছে আইনে।
বিদ্যুৎ খাতে শৃংখলা আনার পাশাপাশি ১৯১০ সালের বিদ্যুৎ আইনকে যুগোপোযোগী করতে নতুন আইনের খসড়া তৈরি করে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই খসড়া আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
পুরনো আইনটি বাংলায় রূপান্তর করে যে নতুন খসড়া তৈরি করা হয়েছে, তাতে আধুনিকায়নের পাশাপাশি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এবার বিদ্যুৎকেন্দ্র বা স্থাপনায় নাশকতা কিংবা সরবরাহ বাঁধাগ্রস্ত করলে সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এর বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এছাড়াও আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আর শিল্প ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অবৈধ সংযোগ নিলে ৫ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান করা হয়েছে। বিদ্যুৎ অপচয় করলে পাঁচ বছরের শাস্তির বিধান রয়েছে। বিদ্যুৎ চুরি কিংবা চুরিতে সহযোগিতা করলেও সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া বিদ্যুতের অপচয় ঠেকাতে একটি তদন্ত সেল গঠন এবং এ খাতের দেখভালের জন্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট সিস্টেম অপারেট-আইএসও নামে আরেকটি নতুন প্রতিষ্ঠান করার কথা বলা হয়েছে খসড়ায়।
আর সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনীর প্রধান পদের মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর নির্ধারণ করে আইনের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এর আগে এই পদের কোনো আইনী কাঠামো ছিল না। নতুন আইন অনুযায়ী বেতন, ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন তারা।
এর বাইরে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা তিনটি কল্যাণ ট্রাস্ট গঠনের প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।