বর্তমান সময়ে দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলো সবচেয়ে বেশী নিপীড়নের শিকার— নানা সহিংসতায় তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা।
তিনি বলেন, সেইসঙ্গে রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতা ও বৈরী আচরণও অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
আন্তজার্তিক আদিবাসী দিবস উদযাপনকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভূমি নির্বিঘ্নে বেদখল হয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাসীনদের কাছে তারা আজ অসহায়। এ পরিস্থিতিতে শান্তিচুক্তির পূণার্ঙ্গ বাস্তবায়নের পাশাপাশি পাহাড়ে সহিংসতা বন্ধের জোর দাবি জানান।
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপনকে সামনে রেখে শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম। সেখানে দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়।
ফোরামের সভাপতি সন্তু লারমা তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলো এখন সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত, নিপীড়িত, শোষিত এবং অধিকার বঞ্চিত।
সম্প্রতি লংগদু, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের ওপর হামলা এবং সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার তাদের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরাও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতি সহিংসতার সমালোচনা করেন।
আসছে নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের প্রতি যেন কোনও ধরনের সহিংসতা না হয় সেদিকে বিশেষ নজর রাখারও তাগিদ দেন বক্তা মেজবাহ কামাল, আবুল মকসুদ ও পঙ্কজ ভট্টাচার্য।
আদিবাসি ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব দ্রং এসময় ১০টি সুপারিশ তুলে ধরেন সরকারের উদ্দেশে।
এরমধ্যে রয়েছে- শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, ভূমি সমস্যা দূর করতে একটি স্বতন্ত্র ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসী সংক্রান্ত জাতিসংঘের ঘোষণাপত্রের বাস্তবায়ন।
এছাড়া পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ওপর সব ধরনের সহিংসতা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তারা।