পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রগতিশীল ধারায় স্বাধীন দেশের যাত্রা রুদ্ধ হয়। কলঙ্কিত হয় রাজনীতি। সামরিক বুটের নিচে চাপা পড়ে গণতন্ত্র।
বিশ্লেষকরা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর টানা দুই দশকের শাসন ব্যবস্থা শুধু শাসন ও প্রশাসনযন্ত্রকেই কলুষিত করেনি সমাজের রন্ধে রন্ধে ঢুকিয়ে দেয় সাম্প্রদায়িকতার বিষ। সেই পথ থেকে রাজনীতি কিছুটা সরে গণতন্ত্রের পথে এলেও সংকট এখনো কাটেনি। এই সংকট নিরসনে তরুণ সমাজকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তির ইন্ধনে রাজনৈতিক ও সেনা কুচক্রীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার নীলনকশা নিয়ে এগুচ্ছিল অনেক আগে থেকেই। শুধু ক্ষমতা দখলই নয়, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে দেয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য। রাজনীতি ও প্রশাসনযন্ত্রে লুকিয়ে থাকা এতো বড় ষড়যন্ত্র মুক্তিযুদ্ধের শক্তি কিংবা মুক্তিযোদ্ধারা কখনও উপলব্ধি করতে পারেনি। এটি ছিল বড় ব্যর্থতা।
দেশ টিভির সঙ্গে কথা বলছিলেন সাবেক সেনা প্রধান অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এম হারুন অর রশিদ বীর প্রতিক।
১৫ আগস্টে তিনি ঢাকার দৃশ্যপটে না থাকলেও সেনাবাহিনীতে তখন তিনি রংপুর ৭২ ব্রিগেডের মেজর। সেই অবস্থান থেকেই তিনি তুলে ধরেছেন তার পর্যবেক্ষণ।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশ ঘুরপাক খেতে থাকে খন্দকার মোশতাক, বিচারপতি সায়েম আর সেনাপতি জিয়াউর রহমানের সামরিক-বেসামরিক আবর্তে। রুদ্ধ হয় আইনের শাসন, নিষিদ্ধ হয় জাতির জনক হত্যার বিচার, কোপানলে পড়ে দেশের সংবিধান। রাজনীতিতে ঠাঁই করে নেয় মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি।
সেই অবস্থা থেকে রাজনীতিতে গণতন্ত্র ফিরতে শুরু করলেও সমাজব্যবস্থায় এখনও রয়েছে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্প। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটানোই এখন সময়ের প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
একাত্তরের পরাজিত শক্তিই পঁচাত্তরের পনেরো আগস্টের কুশীলব উল্লেখ করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. হারুন অর রশিদ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আদর্শকে মুছে ফেলতে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল।
দেশকে অর্থনৈতিক, সামাজিকভাবে বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দেয়া হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বঙ্গবন্ধুকে হারানোর ক্ষতি অপূরণীয় উল্লেখ করে, আর কোনো পনেরো আগস্ট যাতে না দেখতে হয় সেজন্য মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তোলার বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন এ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।