বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত পলাতক খুনিদের অবস্থান শনাক্ত ও তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অগ্রগতি ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন ও জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা তিন খুনির প্রত্যার্পনে দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।
তবে মৃত্যুদণ্ডকে সমর্থন করে না বলে কানাডায় থাকা খুনি নুর চৌধুরীকে ফিরিয়ে দিচ্ছে না দেশটির সরকার। তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অন্য তিন খুনি কোথায় আছে সে সম্পর্কে কোনো তথ্য সরকারের কাছে নেই।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ঘটনা দম্ভ করে বিদেশী গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে স্বীকার করেছিলেন খুনি রশীদ ও ফারুক। এ দুই আত্মস্বীকৃত খুনির মধ্যে ফারুককে ২০১০ সালে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে শাস্তি কার্যকর করা হলেও রশীদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো খোঁজ সরকারের কাছে নেই।
বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি সৈয়দ ফারুক রহমানসহ ১২ জনকে দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় আপিল বিভাগেও বহাল থাকায় ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি ৫ খুনি, আব্দুর রশীদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মহিউদ্দিন আহমদ, এ কে বজলুল হুদা এবং এ কে এম মহিউদ্দিনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়।
পলাতক খুনিদের মধ্যে আজিজ পাশা জিম্বাবুয়েতে মারা গেছেন বলে কথিত আছে। আর বাকি ৬ খুনির মধ্যে খন্দকার আব্দুর রশীদ, আব্দুল মাজেদ এবং রিসালদার মোসলেম উদ্দিন একেক সময় একেক দেশে থাকায় তাদের অবস্থান সম্পর্কেও নিশ্চিত নয় সরকার।
অগ্রগতি হয়েছে, খুনি শরিফুল হক ডালিম ও মোসলেম উদ্দিনের অবস্থান সনাক্তকরণে। এদের মধ্যে ডালিম স্পেনে আর মোসলেম জার্মানিতে রয়েছেন। এই দুইজনকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। আর খুনি রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকলেও তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে দেশটির আগ্রহের কথা জানা গেছে।
তবে খুনি নুর চৌধুরী কানাডায় রয়েছেন জানা থাকলেও, মৃত্যুদণ্ডকে সমর্থন করে না বলে দেশটির সরকার তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে না।
রোববার বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশনার বেনোইট পিয়েরে লারামি বিদায়ী সাক্ষাতে এলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুনি নুর চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। আর এব্যাপারে নেওয়া আইনি উদ্যেগের কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।