বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তৃত ছিল দেশের বাইরেও— এ ষড়যন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সংযোগের অনেকটাই কেন্দ্রীভূত ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রশাসনে।
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে খুনিদের আনাগোনার পাশাপাশি কুচক্রীদের হালহকিকত সেসময় প্রেসিডেন্ট নিক্সন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের জানার মধ্যেই ছিল। খুনিচক্র তাদের যোগাযোগ-চেষ্টায় পাকিস্তান ও তাদের মিত্র চীন এবং মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশকেও সঙ্গে পেয়েছিল।
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তির ক্রীড়ণকরা স্বাধীনতার পরও দমে যায়নি। পাকিস্তান ও তাদের এদেশীয় রাজনৈতিক-সামরিক দোসর, মিত্ররা তৎপর ছিল নানা ষড়যন্ত্রে। তারাই গড়ে তোলে কুচক্রী ও ঘাতকচক্র। লক্ষ্য বঙ্গবন্ধুর সরকারকে উৎখাত করা।
এর প্রমাণ মেলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরপরই মোশতাক সরকারের প্রতি পাকিস্তানের পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা। নগদ সহায়তা পাঠানোরও কথাও জানায় তারা।
আর বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড সংঘটনে দেশীয়-আন্তর্জাতিক চক্রান্তের প্রেক্ষিতও দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের শুরুতেই। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে বঙ্গবন্ধু ব্যাপক তৎপর ছিলেন। যে কারণে খুব দ্রুতই জাতিসংঘের সদস্য-রাষ্ট্রভূক্ত হয় বাংলাদেশ।
এ ঘটনা ছিল মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানকে সমর্থনকারী মিত্রশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চরম অপমান। এর প্রতিশোধ নিতেই কিসিঞ্জার বঙ্গবন্ধুকে হত্যার নানা ষড়যন্ত্র লিপ্ত হন।
পাক-মার্কিন আন্তর্জাতিক এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশও সম্পৃক্ত ছিলো আর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছিলো বলেই খুনি মোশতাক-ফারুক-রশীদ গং বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্র খুব সহজে বাস্তবায়ন করতে পারে।