রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক শক্তির সহায়তাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বের ইসলামী রাষ্ট্রগুলোকে সঙ্গে নিয়ে আসছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সম্মলনে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশকে জোরালো প্রস্তাব রাখতে হবে বলে পরামর্শ তাদের।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক আমেনা মহসিন বলেন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় যেহেতু মিয়ানমার গুরুত্ব দিচ্ছে না তাই আন্তর্জাতিক মাধ্যমকেই কাজে লাগাতে হবে।
আর এ কাজ এখনই না করলে রোহিঙ্গা সমস্যা থেকে বাংলাদেশ কখনও মুক্তি পাবে না। দেশ টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তারা।
আন্তর্জাতিক সকল উদ্বেগ ও উদ্যোগ এখন কেন্দ্রীভূত হচ্ছে মিয়ানমার বাহিনীর দমন-পীড়ন বন্ধ করা ও রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা এবং নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার মধ্যে। গত কয়েকদিনে বাংলাদেশে প্রায় তিন লাখ আশ্রয় পেলেও দুদেশের সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে জড়ো হয়ে আছে হাজারো রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু। এই শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রসংশিত হয়েছে।
দেশের বিশেষজ্ঞদের মতে শুধু প্রশংসাই যথেস্ট নয় রোহিঙ্গাদের বিষয়ে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে হবে। আর এজন্য সবচেয়ে কার্যকরি পথ আন্তর্জাতিক মাধ্যম ব্যবহার করে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করা।
এক্ষেত্রে আঞ্চলিক শক্তিকেও গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন আরেক বিশেষজ্ঞ।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনির বলেন, বলেন, একই সমস্যায় ভুগতে হয় এমন দুই দেশ ভারত, চীনকে পাশে রেখে এই সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে না হলে দীর্ঘ দুই দশকে যে সমস্যার সমাধান হয়নি তা এবারও হবে না।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থায় দীর্ঘদিন কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, লাখ লাখ রোহিঙ্গার নিরাপত্তা দেয়া সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জের কাজ। কারণ এসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মিশে গেলে, দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
তাই তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের অংশেই একটি অস্থায়ী নিরাপদ জোন করে রোহিঙ্গাদের সেখানে আশ্রয় দেয়ার ব্যবস্থা করার পরামর্শ তার।
এদিকে, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তুরস্কের ফাস্টলেডি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সফর করে গেছেন।
এরইমধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রস্তাবের কথা দিয়েছে তুরস্ক। এই সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে আরও জোরালো ভূমিকা পালনের পরামর্শ তাদের।