লেখক ও নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মা না ফেরার দেশে। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ছাড়াও ফুসফুসে সংক্রমণে ভুগছিলেন তিনি মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৮ বছর৷
শুক্রবার ভোর ৩টা ৫০ মিনিট থেকে তিনটা ৫৫ মিনিটের মধ্যে তিনি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
দ্বিজেন শর্মার মেয়ে শ্রেয়সী শর্মা লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে৷ তার শেষ ইচ্ছা ছিলো তাকে যেন দাহ না করে সিলেটের বড়লেখায় তার গ্রামের বাড়িতে সমাহিত করা হয়৷
দ্বিজেন শর্মাকে গত ২৩ জুলাই রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ২৯ জুলাই তাকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউতে) নেয়া হয়। সেখান থেকে বুধবার তাকে স্কয়ার হাসপাতালের আাইসিইউতে ভর্তি করা হয়৷
দ্বিজেন শর্মা ১৯২৯ সালের ২৯ মে সিলেট বিভাগের বড়লেখা থানার শিমুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতা সিটি কলেজ থেকে স্নাতক অর্জনের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করেন। তিনি উদ্ভিদবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেছেন করিমগঞ্জ কলেজ, বিএম কলেজ ও নটর ডেম কলেজে। পরে মস্কোর প্রগতি প্রকাশনে চাকরি করেছেন প্রায় কুড়ি বছর। এরপর দেশে ফিরে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিতে। বাংলা একাডেমি, একুশে পদকসহ বিভিন্ন জাতীয় সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
তার লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে-‘সপুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণীবিন্যাস’, ‘ফুলগুলি যেন কথা’, ‘গাছের কথা ফুলের কথা’, ‘এমি নামের দুরন্ত মেয়েটি’, ‘নিসর্গ নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা’, ‘সমাজতন্ত্রে বসবাস’, ‘জীবনের শেষ নেই’, ‘বিজ্ঞান ও শিক্ষা : দায়বদ্ধতার নিরিখ’, ‘ডারউইন ও প্রজাতির উৎপত্তি’, ‘বিগল যাত্রীর ভ্রমণ কথা’, ‘গহন কোন বনের ধারে’, ‘হিমালয়ের উদ্ভিদরাজ্যে ডালটন হুকার’, ‘বাংলার বৃক্ষ’ ইত্যাদি।