যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
জাতিসংঘের সদর দপ্তরের মঙ্গলবার জাতিসংঘের সংস্কার সম্পর্কিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর শেখ হাসিনার সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এ আশ্বাস দেন।
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের উদ্যোগে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সংস্কার বিষয়ক সভায় যোগ দিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে এ আশ্বাস দেন তিনি।
এর আগে সভায় তার বক্তব্যে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকেই জাতিসংঘের কার্যকারিতার পথে প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করে, এটি দূর করতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহবান জানান ট্রাম্প। পরে "যৌন হয়রানী ও অপব্যবহার রোধ" শীর্ষক বৈঠকে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা।
জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত ১৯৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় সংস্থাটির সংস্কার বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজনে নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় সোমবার সকালে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে এ সভায় যোগ দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।
সভা শেষে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় শেখ হাসিনার সঙ্গেও কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকবেন বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সভার শুরুতেই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জাতিসংঘ পুনর্গঠন নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। বিশ্ব সংস্থাটি ব্রুরোক্রেসি আর অব্যবস্থাপনার কারণে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না উল্লেখ করে, অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনার ওপর জোর দেন তিনি।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতাই জাতিসংঘের প্রধান সমস্যা।
এরপর যৌন নিপীড়ন বিরোধী ও নিরাপদ কর্মবিষয়ে দুটি আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, শান্তিরক্ষায় যৌন নিপীড়ন ঠেকাতে জিরো টলারেন্স গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ।
পরে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক হোটেল গ্র্যান্ড হায়াত-এ সাংবাদিকদের ব্রিফকালে এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শুভেচ্ছা বিনিময়কালে ট্রাম্প রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পর্কে জানতে চান— জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার শামীম আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নে প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এর আগে বৌদ্ধ অধ্যুষিত দেশটিতে জাতিগত নির্মূলের নীল-নকশার নির্যাতনে অনুরূপ সংখ্যক রোহিঙ্গা নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশে বাস করছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ রোহিঙ্গাসহ সব ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকা এবং এ সংকট সমাধানে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। সুষমা যৌথ কমিশনের বৈঠকে যোগ দিতে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সফর করবেন।
এর আগে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রানি সংস্থাটির সদর দপ্তররে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বলেন যে, তারা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে চায় এবং তিনি শরণার্থীদের অবস্থা দেখতে বাংলাদেশ সফর করবেন।
শেখ হাসিনা বলেন, এই ইস্যুতে জাতিসংঘ সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের রেজিস্ট্রেশন ছাড়া অন্যসব বিষয়ে একত্রে কাজ করবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তেসোরিং তোবগে’র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরের শেষে মহাকাশে বাংলাদেশ যে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করবে তা থেকে সেবা প্রদানের অনুরোধ জানান। তিনি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল থেকেও ব্যান্ডউইথ সেবা গ্রহনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
একইদিন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্যোগে আয়োজিত এক বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। চীন, রাশিয়া, জার্মিনি, যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি ওই বৈঠকে অংশ নেন। আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এ সময় রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের বিষয়ে বাংলাদেশের প্রশংসা করা হয় বলে জানান শহীদুল হক।
সূত্র বাসস।