সামনেই নির্বাচন আসছে –তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে হলে জনগণের ভোট পেতে হবে জনগণ যেন পছন্দের প্রার্থী বাছাই করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে চাই বলে অভিমত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার রাতে ম্যানহাটনের ম্যারিয়ট হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেয়া নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
সংবর্ধনায় আগামী নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ তৈরির আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন যুক্তরাষ্ট্রে। নানা ব্যস্ততার মাঝেও স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের এক গণসংবর্ধনায়। সেখানে তিনি দেশের উন্নয়নের হালচাল, বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা, রোহিঙ্গা ইস্যুসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে তাদেরকে নাগরিক অধিকার দিতে হবে মিয়ানমারকে সেইসঙ্গে রাখাইনে সেনা বাহিনীর দমন-নিপীড়ন, হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে।
সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী সঙ্কট মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে প্রতিবেশি কোনো দেশের বিরুদ্ধে কোনো রকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ার করে দেন তিনি।
এ সময় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা।
আগামী নির্বাচনকে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে ভোটারদের আস্থা অর্জনে নিজ দলের নেতাকর্মীদের কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপি-জামাত জোটের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ক্ষমতায় গেলে দেশে আবার জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হবে।
তিনি গণতন্ত্রের ভীত মজবুত করে দেশকে এগিয়ে নিতে চান— আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি তার ভাগনি যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিকের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘জনপ্রিয়তা কীভাবে বাড়াতে হবে, তা আমি আমার সংসদ সদস্যদের বলেছি। বড় গাড়ি, বাড়ি, টাকা দিয়ে ভোট পাওয়া যাবে না, জনগণের মন জয় করেই নির্বাচনে জিততে হবে।
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ সভাসহ নিউইয়র্কে তার ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রবাসীদের ভালোবাসা আর উচ্ছ্বাস দেখে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।
দেশে দারিদ্র্যের হার কমেছে—উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে— প্রতিটি খাতে দেশের উন্নয়নের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এক সময় আমাদের যারা ক্ষুধা আর ভিক্ষুকের দেশ মনে করত, এখন তারা সম্মানের চোখে দেখে। বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে উন্নীত হয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান সংবর্ধনায় সভাপতিত্ব করেন। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।