রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান না হলে তা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করবে বলে শঙ্কা প্রকাশ তাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।
বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে 'নাগরিক সমাজ' নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতা দেন মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।
একই সঙ্গে আশ্রয় প্রার্থী অসহায় রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া হয়েছে— এতে বাংলাদেশকে কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। তারপরও তাদের মানবিক মর্যাদার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত জাতিগত হত্যাযজ্ঞ বন্ধ এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিতে কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নে দেশটিকে বাধ্য করতে হবে। এজন্য ভারত, চীন, রাশিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় ও ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে কাজ করতে হবে বাংলাদেশকে। এসব দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।
খুশী কবির বলেন, রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরম্নদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে— বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে নারীদের পরিস্থিতি বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে ১১ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সামর্থ্য অনুযায়ী সব পদক্ষেপ নেয়া, সরকারে পাশাপাশি এনজিও, আন্তর্জাতিক সংস্থা, জাতিসংঘসহ সবাইকে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনকারী মিয়ানমারের সেনা ও পুলিশ সদস্যদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের দাবি তুলতে হবে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশের ভেতরে যাতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু বা জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাণা দাশগুপ্ত বক্তব্য রাখেন।