মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন নিয়ে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বিস্তারিত তুলে ধরবেন বিশ্বসংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
এদিকে, এ পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ৪ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গার জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা দ্বিগুণ করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
সংস্থাটির মুখপাত্র এড্রিয়ান এডওয়ার্ড জেনেভায় এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ত্রাণ স্বল্পতায় রোহিঙ্গাদের অবস্থা আরো শোচনীয় হতে পারে।
বৃহস্পতিবার হতে যাওয়া বৈঠক থেকে রাখাইনে দ্রুত সহিংসতা বন্ধ করে সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে পরিষদের কাছে জোরালো পদক্ষেপ আশা করছে বাংলাদেশ।
এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচ দফা প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে বিবেচনার জন্য জমা দেয়া হয়েছে।
রাখাইনে সেনাবাহিনীর হত্যা-দমনপীড়ন থেকে বাঁচতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছে বাংলাদেশ। তার ফলশ্রুতিকে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।
জাতিসংঘ এরই মধ্যে রাখাইনে চলা এই সেনা অভিযানকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ বলে অভিহিত করেছে।
মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আলোচনা হয়। মূলত বৃহস্পতিবারের বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এতে রাখাইনে অবিলম্বে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করা, সেখানে নির্বিঘ্নে ত্রাণকর্মীদের কাজ করতে দেয়া এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা জোর দিয়েছেন। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে তারা এ বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেবেন।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য চার সদস্য রাষ্ট্রের অনুরোধে এ বৈঠকে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করবেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
এরইমধ্যে গত ২১ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ করেন তা আলোচনার জন্য নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেয়া হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
মিয়ানমারও তাদের মতো করে বাংলাদেশের বন্ধুদেশগুলোকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এরপরও গত কয়েকদিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ধারণা করা হচ্ছে, নিরাপত্তা পরিষদে চীন, রাশিয়া এবার ভেটো নাও দিতে পারে। বড়জোর হয়তো এখনই মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো প্রস্তাব না নেয়ার কথা বলতে পারে।