প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক চাইলে তদন্ত করতে পারবে-বলছেন আইনজ্ঞরা। তবে এ সংকট নিরসনে রাষ্ট্রপতিকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তারা।
সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়া সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত যে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।
তবে, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যায়িত করে এ ঘটনাকে বিচার বিভাগের জন্য অশনি সংকেত বলে উল্লেখ করেছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।
ছুটি নিয়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার একদিন পর শনিবার তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, নৈতিক স্খলনসহ ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কথা জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। এতে বলা হয়- রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বঙ্গভবনে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতিদের ডেকে নিয়ে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ওই বৈঠকের পর আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক করেন। ওইসব অভিযোগের গ্রহণযোগ্য কোন ব্যাখ্যা বা সদুত্তর প্রধান বিচারপতি দিতে না পারায় আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এইসব অভিযোগের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত একই বেঞ্চে তার সঙ্গে বিচারকাজ পরিচালনা করতে অস্বীকৃতি জানান।
অবসরে যাওয়ার আগে কোনো প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত করা যাবে কিনা সে বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজ্ঞদের অভিমত, শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়া সাংবিধানিক সকল প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বিরুদ্ধে অপরাধের তদন্ত করা যাবে।
তবে অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রধান বিচারপতির অপসারণ কিভাবে হবে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়টি রিভিউর পরই সেটা জানা যাবে।
বিদেশ থেকে আসার পর প্রধান বিচারপতি তার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না সে বিষয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ জানান, যেহেতু আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিরা তার সঙ্গে বসতে আপত্তি জানিয়েছেন তাই এখন তার পক্ষে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হবে না।
এদিকে, প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্রপতির আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিদের সঙ্গে বৈঠক করাকে অসাংবিধানিক বলে অভিযোগ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।