রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তা দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন উন্নয়নশীল আট দেশের জোট ডি-এইট নেতারা। সেইসঙ্গে সংকটের স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ডি-এইট সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানও।
এদিকে, রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতনকে 'গণহত্যা' হিসেবে অভিহিত করছে জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার গণহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ উপদেষ্টা অ্যাডামা দায়েং এবং সুরক্ষার দায়িত্ববিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা ইভান সিমোনোভিচ এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলেন।
রাখাইনে গত ২৫ আগস্ট থেকে সেনাবাহিনী চালানো দমনপীড়ন থেকে বাঁচতে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ। চলমান এই সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান চান উন্নয়নশীল আট দেশের জোট ডি-এইট এর নেতারা। সেইসঙ্গে সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশকে রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তারা।
তুরস্কের ইস্তানবুলে ডি-এইট সম্মেলন চলাকালে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এসব কথা জানান। ওইদিনই এই সম্মেলন শেষ হয়েছে।
রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যতদূর সম্ভব সহযোগিতা করছে। তুরস্ক ও অন্যান্য দেশও সাহায্য করছে।
তিনি আরো বলেন, রাখাইনে কোনো মুসলিম আবশিষ্ট নেই বিশেষ করে রাখাইনের বুথিডাউং ও মংডু এলাকায়।
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়া প্রসঙ্গে শাহরিয়ার আলম জানান, তাদেরকে জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না। বাংলাদেশ চায় মিয়ানমার সরকার তাদের ফিরে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করবে।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মিয়ানমারের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর জোর দেন।
তিনি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিশেষ করে ওআইসি ও জাতিসংঘে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সমর্থন দেয়ারও নিশ্চয়তা দেন।
এদিকে, রাখাইনে সংঘটিত রোহিঙ্গা নির্যাতনকে এতোদিন জাতিগত নিধন বললেও এই প্রথমবারের মতো একে 'গণহত্যা' হিসেবে অভিহিত করছে জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার ‘গণহত্যা’ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ উপদেষ্টা অ্যাডামা দায়েং এবং সুরক্ষার দায়িত্ববিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা ইভান সিমোনোভিচ এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলেন। তারা মিয়ানমার সরকারকে রাখাইনে 'ভয়াবহ নৃশংস অপরাধ' অবিলম্বে থামানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের এ দুই উপদেষ্টা দীর্ঘদিনে ধরেই রাখাইন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। সেখানে ভয়াবহ নৃশংস অপরাধ হতে পারে বলে তারা আগেই সতর্ক করেছিলেন বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
উপদেষ্টারা জোর দিয়ে বলেন, যারা এসব নৃশংসতা ঘটিয়ে তারা যেই হোক না কেন অবশ্যই তাদের বিচার হতে হবে।