জাতীয়

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমারকে চাপ দেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সিপিএয়ের ৬৩তম সম্মেলনের উদ্বোধন

কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

রোহিঙ্গা ইস্যুকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে চাপ দিতে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় কমনওয়েলথ পার্লামন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের-সিপিএয়ের ৬৩তম সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।

উদ্বোধনী ভাষণে তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কৃতি, রাজনীতি, বিদেশনীতির কথা তুলে ধরেন অতিথিদের কাছে।

বাংলাদেশ সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করে এগিয়ে যেতে চায় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমান নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করে শুধু এ অঞ্চলেই নয়, এর বাইরেও অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তাদের নাগরিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগে কমনওয়েলথভূক্ত জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশসহ অনেক ছোট দেশই বিরুপ জলবায়ুর ভয়াবহ ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশগুলোর দেয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে বিদেশি জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ এখন বৈশ্বিক সমস্যা— সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করতে হবে।

পৃথিবীতে একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাসভূমি গড়ে তুলতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনপ্রতিনিধিরা কাজ করে যাবেন এমন প্রত্যাশা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্সের মূল পর্ব উদ্বোধন করেন সিপিএ'র ভাইস প্যাট্রন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আটদিনব্যাপী এই সম্মেলনে কমনওয়েলথভুক্ত ৪৪টি দেশের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ সদস্যসহ ৫ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।

শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ—এ কথা উল্লেখ করে উদ্বোধনের আগে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শাসক নয় সেবক হিসেবেই সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই সরকারের লক্ষ্য।

সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়-এ পররাষ্ট্র নীতিতে বিশ্বাসী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করাই সরকারের নীতি।

এ সময় রোহিঙ্গা ইস্যুটি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে সম্মেলনে যোগ দেয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাময়িকভাবে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ, তাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে ও স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে চাপ দিতে হবে জানান প্রধানমন্ত্রী।

কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) ৬৩তম সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী ও সিপিএয়ের ভাইস প্যাট্রন শেখ হাসিনা।

এতে সভাপতিত্ব করেন সিসিএয়ের চেয়ারপারসন ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

সম্মেলনে সিপিএ-এর প্যাট্রন ব্রিটেনের রানির বার্তা পড়ে শোনানো হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ঝাঁকজমক করতে অনুষ্ঠানের আয়োজক সিপিএয়ের বাংলাদেশ ব্রাঞ্চ ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত সিপিএ সম্মেলনটি সুন্দরভাবে অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত ইন্টার পাল্টামেন্টারিয়ান ইউনিয়নের (আইপিইউ) সম্মেলনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান দু’টি। সংসদ ভবনসহ ঢাকাকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। সংসদ ভবনের দক্ষিণে অবস্থিত সবুজ মাঠে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার রঙে আলোকিত করা হয়েছে উঠেছে পুরো সংসদ ভবন। সংসদ ভবন ও তার আশপাশের রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। সম্মেলন স্থলের আশপাশের এলাকা ডিজিটাল ব্যানারে সাজানো হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিপিএ সম্মেলনে কমনওয়েলথভুক্ত ৫২টি দেশের মধ্যে ৪৪টি দেশের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

এসব দেশের জাতীয় ও প্রাদেশিক সংসদের সমন্বয়ে গঠিত ১৮০টি ব্রাঞ্চের মধ্যে ১১০টি ব্রাঞ্চের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারসহ ৫ শতাধিক পার্লামেন্ট সদস্য অংশ নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে প্রতিনিধিদের বড় অংশ ঢাকায় পৌঁছেছেন।

এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘কনটিনিউনিং টু এনহ্যান্স দ্য হাই স্ট্যান্ডার্ড অব পারফরমেন্স অব পার্লামেন্টারিয়ানস’।

এই সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল অংশ নেবেন।

এদিকে সম্মেলনের উদ্বোধন সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হলেও এর বিভিন্ন সেশনগুলো অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি)। এর আগে গত ১ নভেম্বর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত হোটেল রেডিসনে সিপিএয়ের নির্বাহী কমিটির বৈঠক ও সিপিএ স্মল ব্রাঞ্চের সম্মেলনসহ বেশ কয়েকটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ৮ নভেম্বর শেষ হবে এ সম্মেলন। এবারের সম্মেলনের মাধ্যমে মেয়াদ শেষ হচ্ছে সংস্থাটির বর্তমান চেয়ারপারসন ও স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর। আগামী ৭ নভেম্বর সিপিএর নতুন চেয়ারপাসন নির্বাচন করা হবে।

সম্মেলন উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথিদের সুষ্ঠুভাবে আসা-যাওয়া, সুশৃঙ্খল যানবাহন পার্কিং ও আশপাশের এলাকায় যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দিক নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি। ৫ নভেম্বর সকাল ১০টা হতে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত, সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পশ্চিম মাথা (আড়ং ক্রসিং) থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পূর্ব মাথা (খেজুরবাগান ক্রসিং) হয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত যানবাহন চলাচল সীমিত থাকবে।

এদিকে, ইন্দিরা রোডেও যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে, তবে পরীক্ষার্থী (জেএসসি ও জেডিসি) বহনকারী যানবাহন এ নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান:

রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন স্থলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৌঁছানোর পরপরই বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে পাঠের পর পরিবেশিত হবে উদ্বোধনী নৃত্য। এরপর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতি ও সিপিএ চেয়ারপারসন শিরীন শারমিন চৌধুরী স্বাগত বক্তব্য দেন। এছাড়া সিপিএ-এর প্যাট্রন ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথের পাঠানো বার্তা পড়ে শোনানো হয়। এরপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর ৫ মিনিটের একটি ভিডিওচিত্র দেখানোর হয়। এরপর ‘সিম্পোনি অব ডেমোক্র্যাসি’ শিরোনামে পরিবেশিত হবে মঞ্চনৃত্য। এ সময় আরও একাধিক ভিডিওচিত্র ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। বেলা ১২টায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তিনি সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। সিপিএ সম্মেলন উপলক্ষে একটি ডাকটিকিটও এ সময় অবমুক্ত করা হয়।

১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠন সংসদীয় গণতন্ত্রকে সুসংহত ও সমুন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে এই সংগঠনের সদস্যপদ লাভ করে।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্স। ১ নভেম্বর ৬৩তম কনফারেন্সের সূচনা হলেও এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলো রোববার। এর মধ্য দিয়ে কমনওয়েলথভূক্ত ৫৬ দেশের সাড়ে পাঁচশো স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ সদস্যসহ দেশি- বিদেশি রাজনীতিক, আইনপ্রণেতাদের সামনে আরেকবার বিশ্বের কাছে তুলে নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ পেল বাংলাদেশ। জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে নানা প্রতিকূলিতা পেরিয়ে আজকের বাংলাদেশকে দেখল বিশ্বের জনপ্রতিনিধিরা। তাদের সামনে তুলে ধরা হলো, সম্ভাবনাময়, ইতিহাস ঐতিহ্যের ষড়ঋতুর বাংলাদেশকে।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রী

চোরাগলি দিয়ে সরকার উৎখাতের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৩৭১, মৃত্যু ৬২৮৪ জনের

খুলনায় দুই দিনের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ চলছে

২৫ অক্টোবর আংশিক সূর্যগ্রহণ

ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সুদানে জাতিগত সংঘর্ষ নিহত অন্তত ১৫০

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ