ঘটনাবহুল ৭ নভেম্বর আজ (মঙ্গলবার)— পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নভেম্বরে এ দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান আর রক্তপাতের ইতিহাস। ৪২ বছর পরেও দিনটিকে ঘিরে নানা বির্তকের অবসান ঘটেনি।
৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ঠিক আড়াই মাস পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয় ৩ নভেম্বর রাতের অন্ধকারে। ক্ষমতাকেন্দ্রে তখন কুচক্রী রাজনীতিক আর উর্দিধারী আরেকটি কুচক্রী সেনাচক্র।
চলত থাকে বিদ্রোহ, অভ্যুত্থান আর ক্যু-পাল্টা ক্যু। নভেম্বরের ৩ তারিখ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেন মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ। অন্তরীন করেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে। তার ৩ দিন পরই ৭ নভেম্বর কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সদস্যরা গৃহবন্দী জিয়াকে মুক্ত করে। পাল্টা ক্যু'তে নিহত হন খালেদ মোশাররফ।
আর মুক্ত হয়েই ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেন জেনারেল জিয়া। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তারা। পরে কোর্ট মার্শালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় কার্নেল তাহেরের।
অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল জাফর ইমাম বলেন, বিপ্লব বা অভ্যুত্থান বলতে যা বোঝায় ৭ নভেম্বরে ঠিক তা ছিল না। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা, ৩ নভেম্বরের জেল হত্যাকাণ্ড আর ৭ নভেম্বরের ঘটনাবলীকে আলাদা করে দেখার কিছু নেই।
৭ নভেম্বর নিয়ে গত ৪২ বছর ধরে যে আলোচনা সমালোচনা-বির্তক চলছে সুষ্ঠু তদন্ত আর সঠিক অনুসন্ধানের মধ্য দিয়েই কেবল এর অবসান ঘটতে পারে বলেও মনে করেন অবসরপ্রাপ্ত এই লে. কর্নেল।