খুলনা থেকে কলকাতা পর্যন্ত চলাচলকারী মৈত্রী ট্রেন বন্ধন এক্সপ্রেসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বৃহস্পতিবার নিজ নিজ কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ ট্রেনের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক দুদেশ ছাড়িয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় একটি শান্তিপূর্ণ অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভারত ও নিকট প্রতিবেশীর সঙ্গে বাংলাদেশ সহযগিতা করতে চায়।
এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চায় ভারত।
প্রতিবেশিদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ ও আলাপ আলোচনার ওপরও জোর দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, দুদেশের সম্পর্কোন্নোয়নের মাধ্যমে জনগণের মধ্যকার সম্পর্কও গভীর হবে।
যৌথ এ ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পাশাপাশি মৈত্রী এক্সপ্রেসের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস সুবিধা আরো সহজ করা হয়।
১৯৬৫ সালে পূর্বের রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু করতে দু'দেশ কাজ করে যাচ্ছে—এ কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এর সুফল পাবেন জনগণ।
এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত –এ কথা জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার হতে পারা ভারতের জন্য গর্বের।
এসময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, বাংলাদেশকে ভারতের সবচেয়ে ভালো বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেন।
এছাড়াও দ্বিতীয় ভৈরব ও ২য় তিতাস সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা।
রেলওয়ে সূত্র জানা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে খুলনা-কলকাতা রুটে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে বন্ধন এক্সপ্রেস। আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে নিয়মিত শিডিউলে ট্রেনটি চলাচল করবে। এতে আসন সংখ্যা ১৫৬টি।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বার্থের ভাড়া হবে এক হাজার ৫০০ টাকা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আসনের ভাড়া এক হাজার টাকা। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে বন্ধন এক্সপ্রেস খুলনা থেকে কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা করবে। যশোরের বেনাপোল অতিক্রম করবে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে। কলকাতায় পৌঁছবে ভারত সময় সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে। কলকাতা থেকে ভারত সময় সকাল ৭টা ১০ মিনিটে যাত্রা করে খুলনায় পৌঁছাবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে।
বন্ধন এক্সপ্রেস চালুর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৫২ বছর পর খুলনা ও কলকাতার মধ্যে আবার চালু হলো যাত্রীবাহী ট্রেন। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর এই ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যায়। গত ৮ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে এই যাত্রীবাহী ট্রেনটি কলকাতা-খুলনা রেলপথে চালানো হয়।