জাতীয়

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ন চায় ইইউ

নিরাপদে ফেরার মত পরিস্থিতি এখনো হয়নি: ইউএনএইচসিআর

রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফেরার মত পরিস্থিতি এখনো হয়নি: ইউএনএইচসিআর
রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফেরার মত পরিস্থিতি এখনো হয়নি: ইউএনএইচসিআর

বাংলাদেশ-মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ন চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউ।

এদিকে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরার মত পরিস্থিতি রাখাইনের উত্তরাংশে এখনও হয়নি—বলে মত দিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ন চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউ। সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চুক্তি বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা ইইউ সতর্কতার সঙ্গে তা পর্যবেক্ষণ করবে।

গতকাল শুক্রবার ইইউ পরারাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি এক বিবৃতিতে এসব কথা জানিয়েছেন।

এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে পর্যবেক্ষণ করার অনুমতির আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

গতকাল রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরার পথ তৈরি করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্মতিপত্র স্বাক্ষরিত হওয়ার পরদিন ইউএনএইচসিআরের প্রতিক্রিয়া দিয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র আদ্রিয়ান এডওয়ার্ড শুক্রবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই মুহূর্তে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি তাদের ফেরার এবং বসবাসের জন্য নিরাপদ নয়। এখনও অনেক মানুষ পালাচ্ছে, বহু মানুষ সহিংসতা আর ধর্ষণের শিকার হয়ে মারাত্মক মানসিক আঘাতের মধ্যে পড়েছে। অনেকে নিজের চোখের সামনে বন্ধু স্বজনদের খুন হতে দেখেছে। বেশিরভাগই তাদের সহায় সম্বল হারিয়েছে, তাদের বাড়িঘর, গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা চার লাখের মত রোহিঙ্গা গত কয়েক দশক ধরে কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়ে আছে আর গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর আরও সোয়া ছয় লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে।

তাদের ফেরার পথ তৈরি করতে বৃহস্পতিবার নেপিদোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলরের দপ্তরের মন্ত্রী কিয়া তিন্ত সোয়ে একটি সম্মতিপত্রে (অ্যারেঞ্জমেন্ট) সই করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন করে দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করা এবং এজন্য যত দ্রুত সম্ভব একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে সম্মতিপত্রে।

ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র আদ্রিয়ান এডওয়ার্ড শুক্রবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ওই সম্মতিপত্রে কী আছে- তা এখনও তারা দেখেননি।

তবে সহিংসতার শিকার হওয়া মিয়ানমারের ওই জনগোষ্ঠীর রাখাইনে ফেরার বিষয়টি যেন স্বেচ্ছায় এবং নিরাপদে হয় তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

মুখপাত্র বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অবশ্যই আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে এবং এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর পর কবে নাগাদ তা শেষ হবে, স্পষ্ট করে তার সময়সীমা না দিয়েই বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘকে অন্তর্ভূক্ত করার ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার।

বাংলাদেশ-মিয়ানমারের দ্বিপাক্ষিক এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন ইইউ এর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইইউ প্রত্যাশা করে কোনো রকম দেরি না করেই এই চুক্তি বাস্তবায়িত হবে। আর রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ বাসভূমিতে ফেরার পরিবেশ তৈরি করবে মিয়ানমার।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ (এইচআরডব্লিউ) বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও বলেছে, বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়ায়ে অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংশ্লিষ্টতা ও নজরদারি থাকতে হবে।

এইচআরডব্লিউর শরণার্থী অধিকার বিভাগের পরিচালক বিল ফ্রেলিক বলেন, অস্ত্র হাতে মিয়ানমার এখন রোহিঙ্গাদের তাদের গ্রামে স্বাগত জানাবে- এটি ‘হাস্যকর’ একটি ভাবনা।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রত্যাবাসন হতে দেয়া যাবে না। রোহিঙ্গাদের রাখাইনে নিয়ে ক্যাম্পে রাখার পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে। তারা যাতে তাদের গ্রাম আর জমি ফিরে পায়, সেখানে যাতে নতুন ঘরবাড়ি গড়ে ওঠে- তাও নিশ্চিত করতে হবে।

আর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের শরণার্থী ও উদ্বাস্তু অধিকার বিভাগের পরিচালক চার্মেইন মোহাম্মদ বলেছেন, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এড়িয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোনো আলোচনাই অর্থপূর্ণ হবে না।

প্রসঙ্গত: বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা চার লাখের মত রোহিঙ্গা গত কয়েক দশক ধরে কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়ে আছে। আর গত ২৫ অগাস্ট রাখাইনে নতুন করে দমন অভিযান শুরুর পর আরও সোয়া ছয় লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রী

চোরাগলি দিয়ে সরকার উৎখাতের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৩৭১, মৃত্যু ৬২৮৪ জনের

খুলনায় দুই দিনের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ চলছে

২৫ অক্টোবর আংশিক সূর্যগ্রহণ

ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সুদানে জাতিগত সংঘর্ষ নিহত অন্তত ১৫০

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ