এবার বাংলাদেশের শীলতপাটিকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিলো ইউনেস্কো। ইউনেস্কোর নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য আন্তঃরাষ্ট্রীয় কমিটি বুধবার শীতলপাটির বয়নপদ্ধতিকে এ স্বীকৃতি দিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপে গত সোমবার থেকে ওই কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে। কমিটির আলোচ্যসূচির মধ্যে অন্যতম ছিল ২০১৭ সালের নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকা অনুমোদন।
বাংলাদেশের আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন শীতলপাটি। এর বুনন শিল্পের প্রাকৃতিক উপাদান মুর্তা গাছ সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, বরিশাল, ময়মনসিংহ, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে।
তবে শীতল পাটি বুনন শিল্পীদের বসবাস সিলেট অঞ্চলেই বেশি। সিলেটের শীতলপাটির এই বুননশিল্পীরা "পাটিয়াল" বা "পাটিকর" নামে পরিচিত।
লোকজ ঐতিহ্যের ধারক এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নিয়েছে নানা উদ্যোগ। মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জাতীয় জাদুঘর শীতলপাটির বয়নপদ্ধতি "ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ" হিসেবে বিবেচনার জন্য ইউনেস্কোর কাছে প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল।
ফলে বাংলার বাউল সঙ্গীত, জামদানী, পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রার মতো শীতলপাটিও বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেলো।
বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপে ইউনেস্কোর আইসিএইচ কমিটির ১২তম সভায় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শীলতপাটিকে ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার ফয়সাল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। শীতলপাটির বয়নশিল্পের সঙ্গে ১৯টি দেশের ১৫টি নৈর্ব্যক্তিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সদ্য অনুমোদিত তালিকায় স্থান পেয়েছে।