অবশেষে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ হলো। সোমবার আইন মন্ত্রণালয় থেকে বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব না থাকলেও সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কারণেই এই বিধিমালাটির গেজেট প্রকাশ করতে এতো সময় লেগেছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
১৯৯৯ সালে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণে মাসদার হোসেন মামলার রায়ে ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ওই রায়ে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো।
আপিল বিভাগের এই নির্দেশনার পর গত বছর ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় ওই বিধিমালার একটি খসড়া সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। ২৮ আগস্ট বিষয়টি নিয়ে শুনানি চলার সময় আপিল বিভাগ ওই খসড়াকে ১৯৮৫ সালে সরকারি কর্মচারিদের শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালার হুবহু তুলনা করে একে মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী বলে রুলিং দেয়।
এ বছর সুপ্রিম কোর্ট একটি খসড়া বিধিমালা করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায় এবং ১৬ জুলাই আইনমন্ত্রী তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সঙ্গে সাক্ষাত করে তা দ্রুত প্রস্তুত করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানান। ২৭ জুলাই আবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে সাক্ষাত করে খসড়াটি তার কাছে হস্তান্তর করেন আইনমন্ত্রী।
তবে ৩০ জুলাই আইনমন্ত্রীর দেওয়া খসড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এসকে সিনহা। এরপর কয়েক দফা আইনমন্ত্রী তার সঙ্গে বৈঠক করেন এবং আপিল বিভাগ ২৫ বার সরকারকে সময় দেয় বিধিমালাটি প্রকাশের জন্য।
এরপর প্রধান বিচারপতির পদ থেকে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞাসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে গত ১৬ নভেম্বর রাতে বৈঠক করেন আইনমন্ত্রী।
ওই বৈঠকের পর সর্বশেষ গত ১০ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময় বেধে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশ করে আইন মন্ত্রণালয়।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার আলোকেই এই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানালেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব ছিলো না, শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির কারণেই এই গেজেট প্রকাশে এতো সময় লেগেছে।