স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে করা যায়নি একাত্তরের শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা। এ নিয়ে আক্ষেপ-বেদনায় তাড়িত শহীদ-স্বজনেরা। মুক্তিযোদ্ধাদের মতো শহীদ লেখক-শিক্ষক, শিল্পী-সাহিত্যিক, সাংবাদিক-প্রকৌশলীসহ সর্বস্তরের পেশাজীবী-বুদ্ধিজীবীদের তালিকা তৈরি করে তা গেজেট আকারে প্রকাশের দাবি তাদের।
শহীদ পেশাজীবীদের যে সরকারি স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। তাদের আক্ষেপ, রণাঙ্গণে যুদ্ধ না করেও অনেকে খেতাব পেয়েছেন। তবে যাদের জ্ঞানে জাতি আলোকিত হতো সেসব শহীদদের আজো যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।
পাকিস্তানি বাহিনী আর তাদের এদেশীয় সহযোগী রাজাকার-আলবদররা সারাদেশে হত্যাযজ্ঞ চালানোর পাশাপাশি স্বাধীনতার শেষভাগে এসে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা শুরু করে। উদ্দেশ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রগতি ও জাতির মননকে ধ্বংস করা।
বুদ্ধিজীবীরা অকাতরে জীবনদান করে তারা প্রতিষ্ঠা করেন আত্মত্যাগের অনন্য মহিমা। তবে শহীদদের পরিবার সবচেয়ে অবহেলিত বলে উল্লেখ করেছেন তাদের সন্তানেরা।
তারা বলেন, স্বাধীনতার ৪৫ বছরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ হলেও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আলাদা কোনো তালিকা নেই। তাই এবার সে দাবি উঠেছে।
আর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, সংবিধানে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আলাদা করে সঙ্গায়িত না করায় গেজেট প্রকাশ করা হয়নি।
ভবিষ্যতে এমন পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনই সে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।