বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরৎ পাঠাতে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে—শিগগিরই এই কমিটি কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী।
মঙ্গলবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় দুই দিনব্যাপী শুরু হওয়া এ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে জানান তিনি।
সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক এবং মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থো এর নেতৃত্বে দুদেশের সংশ্লিষ্ট ৩০ কর্মকর্তাদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়।
গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপোদিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পর্কিত সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করতে সোমবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থো'র নেতৃত্বে ঢাকায় আসে ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দুদেশের সচিব পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক এবং মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থো'কে নিজ নিজ দেশের নেতৃত্বে রেখে দুদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ত্রিশ সদস্যের এই ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়।
এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর ও হস্তান্তরের পর কমিটির বিস্তারিত জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, এই কমিটি শিগগিরই কাজ শুরু করবে।
আর এর মধ্য দিয়েই রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরৎ পাঠানোর প্রক্রিয়া আরেক ধাপ এগিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে এই কমিটি কবে থেকে কাজ শুরু করবে তা এখনি জানাতে চাননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরৎ পাঠানোর প্রক্রিয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সোমবার ঢাকা সফরে এসেছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থো এর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
এর আগে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে গত ২৩শে নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
চুক্তিতে তিন সপ্তাহের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটি গঠন এবং মিয়ানমার দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া শুরু করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে মিয়ানমার কত দিনের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ করবে তা বলা হয়নি চুক্তিতে।
এদিকে, তিন সপ্তাহের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করার কথা বলা হলেও এ পর্যন্ত তা করা হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখনো দুই দেশের মধ্যে 'টার্মস অব রেফারেন্স' চূড়ান্ত হয়নি।
আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে মিয়ানমারে সেনা বাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা।