হোয়াংহো এক সময় যেমন চীনের দুঃখ ছিল এখন আর নেই তেমনি নোয়াখালীর খালও আর সেখানে দুঃখ হয়ে থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নোয়াখালীর মানুষকে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সঙ্কট থেকে মুক্তি দিতে খাল সংস্কার ও পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নোয়াখালীর জলাবদ্ধতা নিরসন ছিল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।
‘যখনই আমি নোয়াখালী গিয়েছি, তখনই আমি শুনেছি নোয়াখালী খালের কথা— এ খালটা কেটে দিলে জলাবদ্ধতা দূর হবে এটা আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল জানান প্রধানমন্ত্রী।’
প্রকল্প বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে নোয়াখালীর আশপাশের এলাকায় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হবে— পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
এছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে কাজটি শেষ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী আজই ফেনীর মহিপালে ছয় লেন ফ্লাইওভার প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
৩২৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের আওতায় জলাবদ্ধতা নিরসন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নে নোয়াখালী খাল এবং জেলার ২৩টি খালের পুনঃখনন করা হবে সেইসঙ্গে ১৬০ বর্গ কিলোমিটার এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।
এ প্রকল্পের আওতায় ১৮২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, বামনি নদীতে ড্রেজিং, স্লুইস গেইট, ক্লোজার ও রেগুলেটর নির্মাণ এবং ১০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ করা হবে।
গত ২০১৬ সালের নভেম্বরে একনেকের অনুমোদন পাওয়া এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন হবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন করবে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরপরই কবিরহাট উপজেলার ধান শালিক এলাকায় খাল পুনঃখনন কাজ শুরু করা হয়। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তার আগেই তা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।
নেয়াখালী অনেক পুরনো জেলা হলেও সব সময় ‘একটু অবহেলিত থেকে গেছে—উপকূলের কাছাকাছি বলে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে এ জেলার মানুষকে বাঁচতে হয় এ কারণে তারা কষ্টসহিষ্ণু যোগ করেন মন্ত্রী।
সরকার আশা করছে, নোয়াখালীর খাল পুনঃখনন ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি সন্দ্বীপ চ্যানেলের ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।
এই প্রকল্প ভূমি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলেও প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে আশা প্রকাশ করেন।
ভিডিও কনফারেন্সের ঢাকা প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন নোয়াখালীর এমপি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া নতুন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক।
আর নোয়াখালী প্রান্তে জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদারসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।