ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যর উর্দ্ধগতি, ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়া, রপ্তানির থেকে আমদানি বৃদ্ধি পাওয়াসহ সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থতিশীলতা চাপের মধ্যে রেখে পার করলো ২০১৭। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি বছরে অর্থনীতি আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
শনিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সরকারের চার বছরে উপলক্ষে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং অর্থনীতির পর্যালোচনা তুলে ধরে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
সরকারের চার বছর শেষে সিপিডির উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে অর্থমন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতা, সীদ্ধান্ত গ্রহণের দুর্বলতা।
সংস্থাটির পর্যালোচনা বলা হয়েছে, গেল বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধি যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে— সে অনুপাতে দারিদ্রের হার কমেনি বরং হত দরিদ্র আরো বেশি দরিদ্র হয়েছে আর সবচেয়ে ধনী আরও সম্পদশালী হয়েছে। এর পেছনের কারণ হিসেবে সামগ্রিক অর্থনীতির সঠিক অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করা হয়েছে।
আরো বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প শেষ না করেই বন্ধ করে দেয়া- প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি করাতেও অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। সেক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় উল্লেখযোগ্য।
এদিকে, মূল্যস্ফিতি বেড়েছে, রপ্তানি কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে, বেড়েছে আমদানি। বিদেশে কর্মী পাঠানোর হার স্থিতিশীল থাকলেও অভ্যন্তরীন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়নি— কমেছে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগও।
আর বর্তমান ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি, অপরিশোধিত ঋনের হার অব্যাহত থাকলে ২০১৮ সালে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হবে।
এ বছরকে নির্বাচনী বছর উল্লেখ করে অর্থনীতির গতি ঠিক রাখতে কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি। একইসঙ্গে অর্থনীতি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা অর্থমন্ত্রণালয়ের দুর্বলতা কাটানোর সুপারিশও করা হয়।