আগামী ফেব্রুয়ারিতেই শুরু হচ্ছে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।
বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি শেষপর্যায়ে।
তবে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের এ দ্বিপাক্ষিক প্রস্তুতি যথেষ্ট নয় বলে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
তাদের যুক্তি এই প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। তবে প্রত্যাবাসন এখনই শুরু করার তাগিদ বিশ্লেষকদের।
রোহিঙ্গাদের নিয়ে নানা রকম রাজনীতি চলছে বলেও মনে করেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনির।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের পর থেকেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সীমান্তে যেমন ক্যাম্প নির্মাণ করা হবে তেমনি রাখাইন সীমান্তেও থাকবে ক্যাম্প। সে প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কিন্তু এই প্রস্তুতির মধ্যেই জাতিসংঘ, ইউএনএইচসিআর, মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই প্রত্যাবাসনে আপত্তি তুলেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর যুক্তি যে, রোহিঙ্গারা রাখাইন থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে এসেছে, সেখানে তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি। একই উদ্বেগ অভিবাসন বিশেষজ্ঞদেরও।
মিয়ানমারে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত অনুপ কুমার চাকমা মনে করেন, রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠাতে যথেষ্ট প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এমন বিরোধিতা সরকারের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে জানান তিনি।
প্রত্যাবাসন নিয়ে রোহিঙ্গা নেতাদের শর্ত নিয়েও তিনি কথা বলেন। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক হওয়ার পক্ষে যথেষ্ট বলে এই কূটনীতিক জানান।
এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে দিতে সরকারের প্রস্তুতি চলছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতেই প্রত্যাবাসন শুরু করা যেতে পারে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্র পরিচালিত গণমাধ্যমের খবরেও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে তাদের জন্য বাসস্থান, হাসপাতালসহ সব প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে। রাখাইন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিই পু'র বরাত দিয়ে গ্লোবাল নিউলাইট অব মিয়ানমার-একথা জানিয়েছে।