রোহিঙ্গা সংকটে শান্তিপূর্ণপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সোমবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন ঢাকায় সফররত ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ত্রান দাই কুয়াং। বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত, যন্ত্র প্রকৌশল খাতে সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এর আগে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট সকাল ১০টায় ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে পৌঁছালে শেখ হাসিনা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। দুই নেতার মধ্যে একান্ত বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন শেখ হাসিনা। ভিয়েতনামের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ত্রান দাই কুয়াং। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে দুই নেতার উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে গতকাল রোববার তিনদিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে আসেন ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট। দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশ সফরে এসেছেন।
গত ১৪ বছরে এটি ভিয়েতনামের কোনো প্রেসিডেন্টর প্রথম বাংলাদেশ সফর। ২০০৪ সালে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ত্রান দাক লুয়ং সর্বশেষ বাংলাদেশ সফর করেন।
এর আগে সকালে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সেখানে তিনি একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
পরে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে যান। সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতি আজ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে তার সম্মানে রাষ্ট্রীয় ভোজ এবং একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। তিন দিনের সরকারি সফর শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতির। সমাধান চায় বাংলাদেশ।
এদিকে, রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া নির্যাতিত রোহিঙ্গারা যাতে সসম্মানে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে, সেটাই সরকারের লক্ষ্য। আর সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিজ কার্যালয়ে সফররত ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে একথা বলেন তিনি।
এ সময় এই প্রক্রিয়ায় ভিয়েতনামের সহযোগীতাও চান প্রধানমন্ত্রী। আর রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ত্রান দাই কুয়াং। ওই বৈঠকে মৎস ও প্রাণী সম্পদ, শিল্প, সংস্কৃতিসহ তিনটি সমঝোতা স্মারকে সই করা হয়। প্রধান দুই নেতার উপস্থিতিতে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।