আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ (বৃহস্পতিবার)— শতবর্ষ আগে পাশ্চাত্যের নারী শ্রমিকেরা সমঅধিকারের দাবিতে লড়াই করে যে ইতিহাস গড়েছিলেন তারই ধারাবাহিকতায় এই অঞ্চলের নারীরাও নিজেদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি স্বাধীনতা অর্জনেও লড়াই করেছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে।
শত বছরের পথ পরিক্রমায় কেমন আছে দেশের নারী সমাজ? নারী নেত্রীরা বলছেন, উন্নয়নের সূচকে নারীদের অগ্রগতি হলেও ঘরে-বাইরে এখনো নানা বৈষম্য, সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। কাজের ক্ষেত্র বাড়লেও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ আর প্রকৃত ক্ষমতায়নে নারীরা এখনো পিছিয়েই রয়েছেন।
প্রতিবাদের ইস্যু ছিল, সূঁচ কারখানায় যে নারী-পুরুষ পাশাপাশি কাজ করেন তাদের মধ্যে নারীকে কেন একই কাজের জন্য পুরুষের চেয়ে কম বেতন নিতে হবে? কেনোই বা নারীর ভোটাধিকার নেই? নেই সমঅধিকারও? এ সব গড়মিলের হিসাব মেলাতে ঊনিশ শতকের গোড়ার দিকে নিউইয়র্কের রাজপথে নামে নারী সমাজ।
নারী নেত্রী ক্লারা জেটকিন ডেনমার্কের রাজধানী কোপেন হেগেনে ঘোষণা দেন নারী দিবস উদযাপনের।
সেই থেকে শুরু হয় বৈষম্য দূর করে নারী-পুরুষ সম অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। সে আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই অঞ্চলের নারীরাও নিজেদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি স্বাধীনতা অর্জনেও লড়াই করেছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে।
শুধু মুক্তিযুদ্ধেই নয়, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলের নেত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার থেকে শুরু করে দেশের সকল পেশায়, ক্রীড়াঙ্গণেও সমান পারদর্শী হয়ে উঠছে এদেশের নারীরা। আর এর সবই প্রতিনিয়ত লড়াইয়ের অর্জন।
তবে এসব অগ্রগতি ম্লান হয়ে যায়— যখন দেখা যায় এখনো নারীরা ঘরে-বাইরে নিরাপদ নয়। প্রতিনিয়ত শিকার হয় সহিংসতার। এরজন্য সবার আগে প্রয়োজন সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।
নানা বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে ক্ষমতায়নের পথে নারী এখন কাজ করছেন ঘরের বাইরে। অর্থনীতিতেও অবদান রেখে চলেছেন। এ সাফল্য ধরে রাখতে নারীকে আরো আত্মবিশ্বাসী ও নিজেকে যোগ্য করে তুলতে হবে বলে নারী নেত্রীরা মনে করেন।
নারী অগ্রগতির পথ প্রশস্ত করতে একসময় কোটার ব্যবস্থা থাকলেও এখন আরো কোটাভুক্ত হয়ে থাকতে চাননা নারীরা। যোগ্যতা আর দায়িত্বের দিক দিয়েও তারা সমান তালে এগিয়ে যেতে চান।